বরগুনায় নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা জেলগেটে তার সাথে দেখা করেছে। এবং মিন্নির শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নিয়েছেন।
আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে তারা বরগুনা জেলা কারাগারের সামনে এসেছিলেন। এসময় মিন্নির বাবা তাকে অসুস্থ্যতা দেখা মিন্নিকে জীবিত ফেরত পাবো কিনা, বলে অশঙ্কা প্রকাশ করে অভিযোগ করেন।
মিন্নির সঙ্গে দেখা করার পর তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর অনেকটা ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি কোন মতামত দিতে রাজি না হলেও রাগের সঙ্গে জানান, তার মেয়ে ভাল নেই, বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে।
সাদা পোশাকধারী পুলিশের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, 'তাদের জন্য মেয়ের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতেও পারলাম না। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও তারা কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকে।'
তার বাবা আরো বলেন, মিন্নি যা বলে আমি কিছু বুঝিনি। তার মধ্যে আইন শৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যরা আমাদের বিরক্ত করেছে তাই মিন্নির সাথে ঠিক মতো কথাও বলতে পারিনি আমরা। এর আগে মিন্নির স্বজনরা ২০ জুন মিন্নির সাথে দেখা করেছিলো এবং তখনও মোজাম্মেল হোসেন কিশোর তার মেয়ের অসুস্থতার অভিযোগ তুলেছিলেন।
উল্লেখ্য,আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গত ১৬ জুলাই রাত ৯টার দিকে গ্রেফতার করে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়। পরের দিন বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে কারাগার থেকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
রিমান্ডে নিয়ে ৪৮ ঘন্টা পরেই ১৯ জুলাই বেলা ২ টার দিকে মিন্নিকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ৭ টার দিকে মিন্নিকে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই আইনজীবী এডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম কারাগারে গিয়ে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে জানান, মিন্নিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। মিন্নি ভালভাবে হাঁটতে পারেননা। তার চিকিৎসা দরকার। শনিবারও একই কথা বলেছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।
এদিকে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরগুনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাবিবুর রহমান কারাগারে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির খোঁজ-খবর নিয়ে জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন।
এএস





