কুষ্টিয়ায় কমতে শুরু করেছে পদ্মার পানি। গত দুইদিন পানি বৃদ্ধির পর ৫ সেন্টিমিটার পানি কমেছে।
সোমবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত পদ্মা নদীর পানি হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে।
এদিকে পানির পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও কমেনি বানভাসিদের দুর্ভোগ। দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে কিছু চাল বিতরণ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম। ফলে দুর্গত এলাকায় এখনও কাটেনি খাদ্য সংকট।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর পানি সামান্য হলেও কমতে শুরু করেছে। দুপুরে হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল। যা রোববার বিকেলে ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জানা যায়, বিহার রাজ্যের মানুষকে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচাতে কয়েকদিন আগে ভারত সরকার গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ফারাক্কা ব্যারাজের সবকটি গেট এক সাথে খুলে দেয়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মানদী তীরবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৪১টি এবং ভোড়ামারা উপজেলার ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
পানিবন্দি হয়ে পড়ে অন্তত ১লাখ মানুষ। এতে তলিয়ে যায় এখানার মানুষের প্রধান ফসল আউশ ধানসহ ২ হাজার হেক্টর জমির পাট, কাঁচা মরিচ।
এদিকে নদীতে পানি কমার সাথে সাথে চিলমারী ইউনিয়নের কয়েকটি পয়েন্টে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে ১৩ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন জানান, বন্যায় দুই ইউনিয়নের ৯০ ভাগ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এখানকার প্রধান ফসল আউশ ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কারো ঘরে এক ছটাক খাবার নেই। দুর্গত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।
এদিকে রোববার ভেড়ামারার ঢাকার চর ও গুচ্ছগ্রামের বানভাসি মানুষের কাছে ত্রাণ বিতরণ করেছেন স্থানীয় এমপি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
এ সময় তিনি তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
এসএম





