ভারতের কুচবিহারের বিএসএফের সেক্টর হেড কোয়ার্টারে স্থাপিত বিশেষ আদালত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার বিচারিক কার্যক্রম আকস্মিকভাবে তিনদিনের জন্য মুলতবি করায় ফিরে এলেন ফেলানীর বাবাসহ প্রতিনিধি দল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি পরিচালক লে. কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ।

ফেলানী হত্যার পুনর্বিবেচনার সাক্ষ্য দিতে শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টায় কুড়িগ্রামের ৪৫ বিজিবির সদর দফতর থেকে ভারতের উদ্দেশে রওয়ানা দেন ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন ও ৪৫ বিজিবি পরিচালক লে. কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ।

পরে পথিমধ্যে তারা জানতে পারেন, বিএসএফের বিশেষ আদালত বিচারিক কার্যক্রম তিনদিনের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেছেন। সে কারণে সকাল ১১টার দিকে মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটি।

শনিবার বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল ফেলানীর বাবা নুর ইসলামের।

গত ২২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) কুচবিহারের বিএসএফের সদর দফতরে স্থাপিত বিশেষ আদালতের স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে এ বিচার কাজ শুরু হয়।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী বাবার সঙ্গে ভারত থেকে ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে ফেরার পথে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ তাকে লক্ষ করে গুলি করেন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ফেলানীর মৃত্যু হয়।

বিষয়টি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে।

পরে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। ভারতের বিশেষ আদালতে অভিযুক্ত অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা ও মামা। ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ আদালত অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয়।

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ