আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস পালনে ও ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে যশোরের শার্শা উপজেলায় ৯০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই।

১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতির পর থেকেই প্রতি বছর সারাবিশ্বে পালিত হয় এ দিবসটি। তবে শার্শায় ভাষা দিবসটি পালিত হয় দায়সারা ভাবে।

কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাইমারি স্কুলগুলোতে দিবসটি পালিত হয় দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গড়ে না ওঠায় তৃণমূল পর্যায়ের গুরুত্ব হারাচ্ছে দিবসটি। শিক্ষর্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ও বরনে। ফলে নানা ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে ভাষাপ্রেমী মানুষের মধ্যে।

শার্শার সুবর্ণখালী সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা শামিমা সুলতানা বলেন, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা রক্ষায় যারা শহীদ হয়েছিল তাদের স্মরণে আজও শার্শা উপজেলায় ৯০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার গড়ে না ওঠায় শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা ও স্মরণ করতে পারেনা।

একই কথা বলেন, বেনাপোলের বারপোতা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মেহেরুল্লাহ। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাস ফেরুয়ারি ভাষার জন্যে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করতে পারেন না অনেকে। মাদ্রাসাগুলোতে গড়ে ওঠেনি কোন শহীদ মিনার। এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

শার্শা ও বেনাপোলে রয়েছে ২০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে ১২৬ টি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ মিনার আছে ১১৩ টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। এবং ৩৫ টি হাইস্কুল, ৩২ টি মাদ্রাসা ও ১২টি কলেজ এবং অসংখ্যা কিন্ডার গার্ডেনের মধ্যে মাত্র ২২টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনসহ কোন ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়ায় ভাষা শহীদদেরপ্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না শিক্ষর্থীরাসহ এলাকার মানুষ।

শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ১২৬ টি প্রাথামিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৩ টিতে কোন শহীদ মিনার নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিতপ্রচেষ্টায় এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ দরকার।

শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, অধিকাংশ হাইস্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলেও ক্যাডেট স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। তৃণমূল পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে বা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ভালবাসা জানাতে সব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা প্রয়োজন।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শার্শা ও বেনাপোলের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক এ দাবি শিক্ষক-শিক্ষর্থী, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষের।

নাসির/এমবি