পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের হাজার হাজার মানুষ। ভারিবর্ষণের সাথে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়েই চলেছে।

হাতীবান্ধার ডালিয়ায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার (৫১ দশমিক ৩০) ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনে অবস্থিত বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, ডালিয়া পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বিকাল ৩টায় তা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং সন্ধ্যা ৬টায় ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তার পরও বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।
পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলের গ্রামগুলোয় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাইনুদ্দিন জানান, ভারত নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়ায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারিবর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলও এ জন্য দায়ী।

শুক্রবার সকালে দেখা গেছে, উজানের পানি আর ভারিবর্ষণে বন্যাকবলিত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। ঘরবাড়িতে কোমরসমান পানি ঢুকেছে। অনেক পরিবার নৌকাযোগে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী গ্রামবাসী জানান, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাকে। এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজখবর নেয়নি বলেও জানান তারা।

হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু জানান, পানিবন্দী এলাকা ঘুরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ