কুমিল্লা শহরের আমতলীর গোমতী নদীর তীরে অনুষ্ঠিত জেলা ইজতেমায় অংশগ্রহনকারী হাফেজ ইমাম হোসেন সজিব (১৪) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর সোমবার সকালে তার গলিত লাশ উদ্ধার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।
নিহত হাফেজ ইমাম হোসেন সজিব কুমিল্লার স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক আমাদের কুমিল্লা’ পত্রিকার গ্রাফিক্স ডিজাইনার ইকবাল হোসেন’র ছোটভাই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার শিবনগর গোমতী নদীর ব্রীজের নিচে পানিতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা দেবিদ্বার থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোরশেদ পারভেজ তালুকদার ও উপ-পরিদর্শক (এস,আই) মাহফুজুর রহমান একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সংবাদ পেয়ে নিহত কিশোরের স্বজনেরা এসে তাকে
শনাক্ত করে। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ নিহতের লাশ স্বজনের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
নিহত হাফেজ ইমাম হোসেন সজিব চাঁদপুর জেলা সদরের স্বর্না’র অধিবাসী। নিহতের পিতা মোটর পার্টস বিক্রেতা তাজুল ইসলাম স্ব-পরিবারে কুমিল্লা শহরের রেইস কোর্স ধানমন্ডি সড়কের ১৬০০/০৪/১৬ নং বাসায় ভাড়া থাকেন। নিহত সজিব কুমিল্লা শহরের চম্পকনগর (সাতোরা) মুমিনিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। সে ইতোমধ্যে ২৭ পাড়া কোরআন হেফজও করে ফেলেছিলেন।
নিহতের স্বজনেরা জানান, গত ২৯-৩১ ডিসেম্বর তিন দিন ব্যাপী কুমিল্লা শহরের আমতলী গোমতী নদীর তীরে কুমিল্লা জেলার তাবলিক জামায়েতের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ইজতেমায় মুমিনিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার আরো ১৭জন বন্ধু নিয়ে সজিব অংশ গ্রহন করেছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সজিব নিখোঁজ হওয়ার সংবাদটি ইজতেমার মাইকে প্রচারিত হলেও তার সন্ধান কেউ দিতে পারেনি। পরে তার বন্ধুদের কাছ থেকে জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বর দুপুরে তার বন্ধুদের সাথে গোমতী নদীতে গোসল করতে গিয়ে সাতার না জানার কারনে গোমতী নদীর স্রোতে হারিয়ে যায়। তাকে আর ভাসতে দেখেনি কেউ। বিষয়টি ভয়ে তার বন্ধুরা গোপন রেখেছিল বলে জানা যায়।
গতকাল সোমবার ভোরে ফজর নামাজ শেষে বুড়িচং উপজেলার কংশনগর বাজার সংলগ্ন রামচন্দ্রপুর মসজিদে দু’ছাত্র এ বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে কংশনগর বাজারের ‘সরকার ষ্টিল ওয়ার্কশপ’র স্বতাধিকার বশির উদ্দিন জানতে পারেন গত ১ জানুয়ারী সকালে স্থানীয়রা কংশনগর বাজার সংলগ্ন গোমতী নদীতে পাজামা পরিহিত একজনকে ভাসতে দেখেছেন। তাবলিগ জামায়েতের একজন সমর্থক হওয়ায় সংবাদটি শোনে তিনি নূরমানিক মসজিদের সাথী অধ্যাপক সফিউদ্দিন’র সাথে কথা বলে বশির উদ্দিন গোমতী ভেরীবাঁধের উপর দিয়ে মোটর সাইকেল যোগে গোমতী নদী অনুসরণ করে এগুতে থাকেন। সকাল সাড়ে ১০টায় গোমতী নদীর দেবিদ্বার অঞ্চলের গোমতী নদী ব্রীজের নিচে পশ্চিম অংশে একটি খুঁটির সাথে আটকে থাকতে দেখে দেবিদ্বার থানা পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের গলিত মরদেহ সুরহতহাল তৈরীপূর্বক উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এরই মধ্যে নিহতের বাবা তাজুল ইসলাম, বড়ভাই ‘দৈনিক আমাদের কুমিল্লার’ পত্রিকার গ্রাফিক ডিজাইনার ইকবাল হোসেন ও তার ভগ্নীপতিসহ স্বজনেরা সুরতহাল ও লাশের বিবরণ দেখে শনাক্ত করেন।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি সার্বিক) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ইজতেমায় অংশ নিয়ে গোমতী নদীতে গোসল করতে যেয়ে হাফেজ সজিব নিখোঁজ হন। কুমিল্লা, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া হয়ে দেবিদ্বার এলাকার ব্রীজের নিচ থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যপারে বুড়িচং উপজেলার কংশনগর বাজারের সরকার ষ্টিল ওয়ার্কশপ’র মালিক বশির উদ্দিনের একটি সাধারণ ডায়েরির (ডায়েরী নং- ০২/০১/১৭ইং।) আলোকেই লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের পরিবার এসে লাশ শনাক্ত করলে ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
শাহীন আলম/এমই





