তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদক্ষেপের পাশাপাশি মানুষ সচেতন হলে মানবপাচার রোধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারমান বিচারপতি মো: মমতাজ উদ্দীন।

তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে এক্ষেত্রে সমাঝোতা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কিছু বিষয় ছাড় দিয়ে হলেও মানবিক দিকটিকে সামনে এনে সমস্যা মোকাবেলায় প্রতিবেশীদের আকৃষ্ট করা যেত পারে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগও রয়েছে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাইঞ্জে এসোসিয়েশন ফর ল’ রিসার্চ এন্ড হিউম্যান রাইট্স (এলার্ট) আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানবপাচার প্রতিরোধে আমাদের করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা আমাদের এখানে আসছেন, তারা আমাদের জন্য বিপদজ্জজনক। কারণ একটা দুষ্টু চক্র আছে, এমনকি সৌদি আরবেও আমাদের ভুয়া নাগরিকত্ব ব্যবহার করতে দেখা যায় তাদের।

গোলটেবিল বৈঠকে মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, মানুষ সচেতন না হলে কেবল আইন করে মানবপাচার বন্ধ করা সম্ভব না। আর যারা বলছেন দেশে কর্মসংস্থান নেই বলে মানুষ অবৈধভাবে বিদেশ যাচ্ছে, তাদের বুঝা উচিত যে টাকায় তারা বিদেশ যাচ্ছে সে টাকায় দেশেই এরচেয়ে ভাল বিকল্প কর্মসংস্থান করা যায়।

তিনি বলেন, মানবপাচারের সাথে একটা চক্র জড়িত। এদের বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে এদের লিংকেজ রয়েছে। আর এর কারণ আজ জনপ্রশাসন শিকড়হীন ও জনসম্পৃক্ততাহীন। তা না হলে তারা জানত কিভাবে কারা মানবপাচার করছে।

তিনি আরও বলেন, এর পিছনে একটি আন্তর্জাতিক লাইন রয়েছে। বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এসব দেশে লিংক করে এ চক্র সক্রিয়। তাই সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে অন্য দেশের সরকারের সাথে সমন্বয় করে পাল্টা লিংক করতে হবে, যা এ চক্রকে প্রতিহত করবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি এডভোকেট মো: জাহাঙ্গীর আলম খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মনোরঞ্জন ঘোষাল, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ডা: সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী প্রমুখ।

এমএ/ এআর