জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অন্তত ৩৫টিতে নিজ দলের বিদ্রোহীদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কমপক্ষে ৭০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এছাড়া ২১ জেলায় জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতাতিন্ত্রক দল (ইনু-শিরীন), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (নাজমুল-আম্বিয়া), গণফোরাম, জাতীয় পার্টিসহ (মঞ্জু) কয়েকটি রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের নেতা ও স্বতন্ত্ররা প্রার্থী হয়েছেন। তবে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের কেউ প্রার্থী হননি।
বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ভোট গ্রহণ হবে ২৮ ডিসেম্বর। জেলা পরিষদে এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্দলীয় এ নির্বাচনে ভোট দেবেন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিরা।
এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের আগেই কমপক্ষে ৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তারা সবাই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। এ নির্বাচনে ৫৫ জেলায় সবমিলিয়ে ১৭০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাহারের পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র ৩ ও ৪ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১১ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১২ ডিসেম্বর।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে, আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বলে কিছু নেই। দলের সিদ্ধান্ত আছে মনোনয়নপ্রাপ্তদের বাইরেও প্রার্থী হওয়া যাবে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যারা টিকবেন, তাদের মধ্যে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর বাইরে কেউ প্রার্থী হয়ে থাকলে তাদের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হবে। ওই সিদ্ধান্ত না মানলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, যেসব জেলা চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হয়েছেন তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হবেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাহারের পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা জয়ী হতে যাচ্ছেন তারা হলেন- ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, গাজীপুরে ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারউজ্জামান,
বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু, যশোরে হাদিউজ্জামান, ঝালকাঠী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম, জয়পুরহাটে আরিফুর রহমান রকেট,
মুন্সীগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, নেত্রকোনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় এবং নারায়ণগঞ্জে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন।
এবারই প্রথম জেলা পরিষদে ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় একবারই সরাসরি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর আর কোনো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়নি।
২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকার ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
অনির্বাচিত এ প্রশাসকদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এমন অবস্থায় ২৮ ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে। প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান,
পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার। তাদের ভোটেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন।
এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন রয়েছে। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) জেলা পরিষদ আইনের তিনটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। রিট আবেদনে জেলা পরিষদ আইন-২০০০-এর ৪(২) এবং ১৭ নম্বর ধারা এবং জেলা পরিষদ সংশোধিত আইনের ৫ নম্বর ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
মাহমুদ.





