লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে আসামিদের রাজকীয় বসবাস, বেআইনিভাবে নগদ টাকা আদান প্রদান ও মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জেল সুপার মাহাবুবুল আলম ও জেলার জয়নাল আবেদিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার সকালে ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসএম নাজিম উদ্দিনকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এ কে এম টিপু সুলতান।

এদিকে সহকারী কমিশনার বেগম উম্মে কুলসুম শম্পাকে সদস্য সচিব ও সহকারী পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন ও সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়নাল আবেদিনকে তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

এই কমিটিকে আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসএম নাজিম উদ্দিন জানান, তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসক একেএম টিপু সুলতান, পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান, সিভির্ল সার্জন ডা. গোলাম ফারুক ভূঁইয়া জেলা কারাগার পরিদর্শন করেন।

কারাগারের ভিতরে হাসপাতাল পরিদর্শন করার সময় হাসপাতালের ভিতরে হাজতিদের নিজস্ব বেড তৈরি করে বসবাস ও বিভিন্ন সেলে (হাজতিদের রুমে) হাজতিরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আসছে। এ সময় হাজতি আবুল কাশেম জিহাদী, সৈয়দ নুরুল আমিন বাবর, সুমন মজুমদার, মাইনুর রহমান শিবলু ও কফিল উদ্দিনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও বেশ কয়েকটি ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়। এসব অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাতে জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্রসচিব, চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও কারা মহা পরিদর্শককে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় বুধবার সকালে জেল সুপার মাহাবুবুল আলম ও জেলার জয়নাল আবেদিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেল সুপার মো. মাহাবুবুল আলম ও জেলার জয়নাল আবেদিনের সাথে বার বার চেষ্টা করে ও তাদের কোন মতামত নেয়া যায়নি।

কেএইচ