ভূমি দস্যুতার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা ও পটুয়াখালির ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির রাখাইনরা ক্রমেই দেশান্তরী হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে নাগরিক কমিটি। তারা বলেন, মাত্র কয়েক দশকে সেখানের রাখাইনদের অস্তিত্ব এখন বিলুপ্তির পথে।

সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির নেতারা এ অভিযোগ করেন।

এতে বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, রাখাইন জনগোষ্ঠীসহ দেশের সকল ক্ষুদ্রজাতি গোষ্ঠির ওপর যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটছে, এ জন্য প্রশাসনিক জবাবদিহিতা থাকা দরকার। সরকারের কর্তব্য হবে এ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সংবিধান অনুসারে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি ক্ষুদ্র জাতির মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষনে একজন ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠির একজন প্রতিনিধি প্রশাসনে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।

আদিবাসী ফোরামের সঞ্জীব দ্রং বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে বিলুপ্ত প্রায় রাখাইনসহ বাংলাদেশের ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠির পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সরেজমিন তদন্তের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবাইয়াত ফেরদৌস। তিনি বলেন, ভূমি দস্যুতার কারণে যেখানে ১৯৪৮ সালে পটুয়াখালিতে ১৪৪টি ও বরগুনাতে ৯৩টি রাখাইনপাড়া ছিল, বর্তমানে সেখানে যথাক্রমে ২৬টি ও ১৩টি পাড়া টিকে আছে।

এছাড়া শতাব্দী প্রাচীন কুয়াকাটা বৌদ্ধবিহারের ৯৯ শতাংশ জমির অধিকাংশ দখল হয়ে গেছে। এমনকি স্থানীয় পৌরভবনের প্রস্তাবিত ভবন নির্মাণের জন্য বৌদ্ধ বিহারের জায়গা । ১৯০৬ সালে সেখানে ছিলো ১৯টি বৌদ্ধ মন্দির ও বিহার। কিন্তু এখন সেখানে কোনো রকমে টিকে আছে একটি মাত্র মন্দির।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইইডির নুমান আহমেদ খান, চলচ্চিত্রকার রাশেদ রাইন, মানবাধিকার কর্মী অনুরাগ চাকমা, সাংবাদিক সালিম সামাদ প্রমুখ।

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই