রাজধানীর হাজরীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে তৈরি মুরগী ও মাছের খাবার তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২৮টি চুল্লী ও সাতটি মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় পরিবেশ অধিদপ্তরের এক সাঁড়াশি অভিযান এগুলো ধ্বংস করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, অভিযানে ২৮টি ড্রাম, কড়াই, চুল্লী ও সাতটি ফিড প্রসেসিং মিল ধ্বংস করা হয়। হাজারীবাগ ও এর আশেপাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব ফিড প্রসেসিং মিল নির্মুল না হওয়া পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজার নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের সহকারী পরিচালক মুহম্মদ হাফিজুর রহমান, সাবরিন সুলতানা ও পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রিজার্ভ পুলিশের ১০ জন সদস্য নিয়োজিত ছিল।

মুহম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, কিছু অসাধু ট্যানারি ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ঝুট চামড়া মুরগীর খাদ্য উৎপন্নকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করে আসছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তা সস্তায় কিনে প্রক্রিয়াজাত করে মুরগী ও মাছের খাদ্য হিসেবে বাজারে বিক্রয় করে। কিন্তু ট্যানারির বর্জ্যে প্রচুর ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়াম থাকায় তা মুরগী এবং মাছের মাধ্যমে মানব দেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগব্যাধির সৃষ্টি করে।

তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে ফার্মের মুরগীর হাড়ে ক্রোমিয়ামের পরিমাণ মানমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, দীর্ঘ দিন এসব খাদ্যে বেড়ে ওঠা মুরগী ও মাছ খেলে মানবদেহে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

জেআই