ইবিতে ভর্তি পরীক্ষা শেষে ফিরতি ভর্তিচ্ছুদের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করেছে 'শ্যমলী' বাসের টিকেট কাউন্টারের পরিচালক শাহিন ও তার সহায়ক কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শেখ পাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ২০ জনের অধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।
পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফেরার জন্য অগ্রীম টিকিটও বুকিং করেছিল ইবির ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। হঠাৎ করেই প্রশ্ন পত্রে সমস্যা হওয়াতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিফটের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করে ইবি প্রশাসন।
আগামী শুক্রবার নেওয়া হবে স্থগিত পরীক্ষা। তাই বাধ্য হয়েই বাড়ি ফেরার টিকেট বাতিল করতে যায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বুকিংকৃত টিকেট ফেরত নিতে যায় ভর্তিচ্ছু বেশ কিছু শিক্ষার্থী। এ নিয়ে শিক্ষার্থী এবং বাস টিকেট কাউন্টার পরিচালকদের মাঝে কথাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে স্থানীয় শ্যামলী পরিবহনের টিকেট কাউন্টার পরিচালক শাহিনসহ অন্যান্য ৫-৭ জন সহযোগী শিক্ষার্থীদের মারধর করে। এ ঘটনায় ২০ জনেরও বেশি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা যায়। তাদের সবাইকে প্রথমিকাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সি ইউনিটে দ্বিতীয় শিফটে পরীক্ষা দিয়েই অনেক শিক্ষার্থী বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে বাসে উঠে পড়েন। মাঝপথে গিয়ে পরীক্ষা বাতিলের সংবাদে তাদের ফিরে আসতে দেখা গেছে। অনেকে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না জানতে পারায় বাসায় চলে গেছে বলে জানা যায় ।
আহত এক ভর্তিচ্ছু বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে বাসায় যাওয়ার জন্য আগ্রীম টিকেট কেটেছিলাম। পরীক্ষা স্থগতি হয়ে শুক্রবারে হওয়ায় বাসয় যেতে পরছি না। তাই টিকেট বাতিল করতে এসেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের অসহায় অবস্থায় না বুঝে উল্টো আমাদেরকে মারধর করে।’
চট্রগ্রাম থেকে আসা জুনায়েদ বলেন, ‘ সন্ধ্যার জন্য টিকেট কেটে ছিলাম। শুক্রবারে পরীক্ষা হওয়ায় এখন বাসায় গেলে গাড়ি থেকে নেমে সাথে সাথে আবার গাড়িতে উঠতে হবে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে কোনো আত্মীয় স্বজন নেই। এখন দুইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করাটা আমার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’
চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে আসা কাউসার মোবাইল ফোনে বলেন, ‘দুপুর বারোটায় দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা শেষ করে বাসে করে রওনা হয়েছি। রাজশাহী এসে এক অনলাইন নিউজপোর্টালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পূন:পরীক্ষার বিষয়টি দেখি হতভম্ব হয়ে যাই।’
পাবনা থেকে আগত তোফায়েল আহমাদ নামে সি ইউনিটের ৩য় শিফটের এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার পর একজন স্যার জানালেন পরীক্ষা ৪টা থেকে শুরু হবে। কিছুক্ষণ পর জানতে পারলাম পরীক্ষা হবে না। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুনে আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বাস শ্রমিকদের সাথে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি।’
হিমেল/জেড





