৬ মে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির উপদেষ্টা জেবা আহমেদ খান ও মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা এমনিতেই নাজুক। তার উপর বর্তমানে সংসদ ও বিচার বিভাগ পরস্পর মুখোমুখি হওয়ায় জাতির জন্য ও গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত বিরাজ করছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের সুশাসনের জন্য গণতন্ত্র অপরিহার্য। গণতন্ত্রের লেবাসে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় রয়েছেন তারা জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাচন, পৌর নির্বাচন সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন জনগণের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
এতে করে তৃণমুল পর্যায়ে রক্তাক্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। অজস্র প্রাণহানি ঘটেছে। মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। কালো টাকার মালিক ও পেশীশক্তিধারীরা ক্ষমতায়নে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা এখন একটি স্বাভাবিক খবরে পরিণত হয়েছে। মা তার সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে দ্বিধা করছে না।
শিশু হত্যা বেড়েছে, অপহরণ ও গুমের ঘটনা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ঠিক সেই মুহুর্তে জাতীয় সংসদে বিচারপতিদের অপসারণ করার জন্য সংবিধানে ষোড়শ সংশোধনী করেছিলেন। এর রেশ কাটতে না কাটতে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণ করতে পারবে না জাতীয় সংসদ বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যাস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।
বিচারপতিদের সমালোচনা করে মন্ত্রী-এমপিরা জাতীয় সংসদে ঝড় তুলেছেন। জাতীয় পার্টি ওয়াক আউট পর্যন্ত করেছে। এতে করে দেশের স্বাভাবিক আইনের শাসন এখন চরম হুমকির মধ্যে পড়ে গেছে।
নেতৃবৃন্দ মনে করেন, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতিবিদদের গণতন্ত্রমনা হওয়া উচিত। তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা না বলে কার্যতঃ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জনগণের সকল অধিকার ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য যা যা করা দরকার তাই তাই সকল রাজনীতিক দলের করা উচিত।
বিশেষ করে যারা সরকারে থাকেন এই দায়িত্ব তাদের উপর ন্যস্ত হয়। তাদেরকে এগিয়ে এসেই গণতন্ত্র রক্ষায় কার্যতঃ ভূমিকা পালন করা উচিত। কিন্তু বিগতদিনগুলো দেশের রাজনীতিতে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে।
১/১১’র পর থেকেই যারাই এ পর্যন্ত ক্ষমতায় রয়েছেন তারা জনগণের ভোটের অধিকার থেকে শুরু করে সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। দেশে মানবাধিকার বলে এখন আর কোন অধিকার নেই। সংবাদপত্রের সত্য কথা লেখা ও বলার সাহসী লোকের সংখ্যা প্রতিদিনই কমে আসছে।
কারণ ইতিপূর্বে যারা সত্য উচ্চারণ করতে গিয়েছে তাদেরকে কারাবরণ করতে হয়েছে। এই তালিকা থেকে বয়োঃবৃদ্ধ শফিক রেহমান থেকে শুরু করে মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না কেউ রেহাই পায়নি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতির এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সকর রাজনৈতিক দলকে সংকীর্ণতা ছেড়ে উদারনীতি গ্রহণ করে সংলাপের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক গভীর সংকট মোকাবেলা করার আহ্বান জানান।
এমবি





