বেনাপোলে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধর করে টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (১৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২ টায়  বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আলী এ টিসি দেন। 

হতবাগা ছাত্রটির নাম আরমান খলিফা। বেনাপোল পোর্ট থানার পোড়াবাড়ি গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে। সে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাণিজ্য ভিাগের ছাত্র। 

ছাত্র এবং তার পিতা অভিযোগ করে বলেন, গত সোমবার (১৩ মার্চ) স্কুলের ইংরেজী দ্বিতীয় পত্র ক্লাস নেওয়ার সময় স্কুল শিক্ষক কামরুজ্জামান স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেনকে বলে দেখেন ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করে না। এরা কোন পড়া পারে না। তখন আমি দাঁড়িয়ে বলি স্যার আপনি তো আমাদের পড়া ধরেননি। এ কথা বলার সাথে সাথে স্যার আমাকে জোরে কানে থাপ্পড় মারে এবং জামার কলার ধরে দেওয়ালের সাথে মাথা ঠোকায়। এরপর ক্লাস থেকে বের করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন আমার জামার কলার ধরে গলা চেপে ধরে, এক পর্যায়ে দেওয়ালের সাথে মাথা ঠোকাতে থাকে। তখন আমি আত্ম রক্ষার্থে মোশাররফ হোসেনের এর সাথে হাতাহাতি করতে বাধ্য হই। আমি তাকে বলি আমি অন্যায় করেছি স্যার আমাকে মারুক-আপনি মারার কে? আমি যদি তাকে বাধা না দিতাম তাহলে সে আমাকে গলা টিপে হয়ত মেরে ফেলত। আরমান আরো বলেন, স্যার কামরুজ্জামন এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আমাকে টেনে হেচড়ে আমার গায়ের জামা পর্যন্ত ছিড়ে ফেলে।

unnamed (5)_2

 

                                                                মারধরে ছিড়ে যায় ছাত্রের শার্ট

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শওকত আলীর কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন তেমন কোন কিছু না। ওই ছাত্র পড়া পারেনি তাই শিক্ষক তাকে শাসন করেছে। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য তাকে মারধর করেছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। যা হয়েছে তা নিয়ে সব মিটমাট হয়ে গেছে। আরমানকে টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, না এমন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

unnamed (6)_1

                                   প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত স্কুল ত্যাগের সনদ

অথচ ওই প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত স্কুল ত্যাগের সনদ (টিসি) বুধবার (১৫ মার্চ) দুপুরে ওই ছাত্রকে দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে আমি বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতাম।

নাসির/জারিফ