‘রাজধানী বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান খিজির খানের হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে। আর ওই তিন কারণকে সামনে রেখে তদন্ত কাজ করবে পুলিশ।’ এমনটিই বললেন গুলশান জোনের উপকমিশনার (ডিসি) এস এম মুস্তাক আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে তার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
উপ-কমিশনার মোশতাক আহমেদ খান বলেন, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। আমরা ধারণা করছি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, সম্পত্তি, পারিবারিক দ্বন্ধ অথবা ধর্মীয় কোন কারণ। তাই এই তিন কারণকে সামনে রেখে তদন্ত কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আরও গভীরে গেলে তাঁরা বলতে পারবেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। কাউকে আটক করা হয়নি। লাশের ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যরা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত নন। বিবেচনা চলছে। হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। যাঁরা হত্যা করেছেন, তাঁরা বাইরে থেকে অস্ত্র নিয়ে এসেছেন।
গুলশান এলাকায় এ রকম হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোশতাক বলেন, কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার, তাঁরা করছেন। পুলিশ ফাঁড়ি বসানো হয়েছে। মোটরসাইকেলে টহল বাড়ানো হয়েছে।
দুপুর ১২টার দিকে খিজির খানের ছোট ছেলে আহমেদউল্লাহ বলেন, বাবার হত্যাকাণ্ডে তিনি কোনো ক্লু খুঁজে পাচ্ছেন না। বাবার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি টেলিভিশনে ধর্মের কথা বলতেন। তাঁর বাবা খিজির খান একেবারে ঘরোয়াভাবে ধর্ম নিয়ে আলোচনা করতেন।
মামলা কখন হবে, জানতে চাইলে আহমেদউল্লাহ বলেন, তাঁর বড় ভাই মতিউর রহমানের আজ চীন থেকে ফেরার কথা। তিনি ফিরলে মামলা হবে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, খিজির খানের পরিবারের লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে গেছেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হতে পারে।
খিজির খানের মুরিদ নূরুস সালাম বলেন, খিজির খানের বড় ছেলে মতিউর রহমান পিডিবির কম্পিউটার প্রকৌশলী। তিনি পিডিবির প্রশিক্ষণে চীনে আছেন। আজ দেশে ফেরার কথা। তাঁর (খিজির খান) ছোট ভাই আমানুল্লাহ মালয়েশিয়া থেকে আজ ঢাকায় আসবেন। তাঁরা ফিরলে লাশ মর্গ থেকে বাসায় আনা হতে পারে। সেখান থেকে পিডিবি ভবনে নিয়ে জানাজা হবে। জানাজা শেষে লাশ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর চরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হতে পারে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় নিজ বাসায় গলা কেটে খিজির খানকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ বলেছে, সন্ধ্যায় বাসার সবাইকে বেঁধে তাঁকে হত্যা করা হয়। ছয়তলা বাড়ির দোতলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এঘটনার পর পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাব ও সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের প্রয়োজনে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, খিজির খান তরিকাপন্থী ছিলেন। বাড়ির তৃতীয় তলায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন। দোতলায় তাঁর ‘রহমতিয়া খানকাহ শরিফ’ (ঢাকা শাখা)। এই খানকাহ শরিফের পির ছিলেন তিনি। রাতে ওই বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাংবাদিকেরা কথা বলতে পারেননি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেন।
খিজির খানের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলে মতিউর রহমান কম্পিউটার প্রকৌশলী। তিনি পিডিবিতে কর্মরত। ছোট ছেলে আহমেদউল্লাহ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। দুই মেয়ে রাবেয়া খাতুন ও রাহেলা খাতুন।
এমআর/এমকে





