মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘পাকিস্তানের সংসদে আলোচনা করা হয়েছে- বাংলাদেশে নাকি কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। কোনো মা-বোন ধর্ষিত হয়নি। ওরা ৭১-এর পরাজয়ের গ্লানি এখনও ভুলতে পারেনি। তাদের আস্ফালনের জবাব দিতে যুদ্ধাপরাধীদের শুধু বিচার করাই হবে না, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ সম্পদ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। আইন না থাকলে নতুন আইন তৈরি করে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।’

শনিবার দুপুরে কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া মুক্ত দিবস উপলক্ষে কাশিয়ানী রেলওয়ে ময়দানে আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামী। তাদের এদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। ৪৪ বছর পরও তাদের স্বভাব পরিবর্তন হয় নাই। তারা জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। তাদের বাংলার মাটিতে আর রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। অচিরেই তাদের রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হবে।

‘জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করা হবে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান মুজিবনগর সরকারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করতে চায়নি। সে ওয়ার-কাউন্সিল করে যুদ্ধ করতে চেয়েছিল। জিয়াউর রহমান, খন্দকার মোশতাক ভারতে বসে পাকিস্তানের সাথে আপোস করতে চেয়েছিলো। সে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করেছিলো। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ পাস করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বন্ধ করে রেখেছিল। সে যুদ্ধাপারাধী আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি ও শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিল। এ সব অপকর্মের জন্য জিয়াউর রহমানেরও মরণোত্তর বিচার করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তাদের ভাতা ১০ হাজার করা হয়েছে। আগামী ঈদ থেকে তাদের দুইটি করে বোনাস দেয়া হবে। আর আগামী জুন মাস থেকে মু্ক্তিযোদ্ধাদের সম্পূর্ণ ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ৭০৫টি যুদ্ধক্ষেত্রে একই ডিজাইনের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া গণকবরগুলো সংরক্ষণ করা হবে।

কাশিয়ানী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার এনায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে উপজেলার বধ্যভূমি সংলগ্ন রেলওয়ে মাঠে অন্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমান্ডের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদীর গামা, সহ-সংগঠনিক সম্পাদক এস এম মজিবুর রহমান, সদস্য মিয়া মুজিবুর রহমান, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, যুদ্ধকালীন কমান্ডার ক্যাপ্টেন নুর মোহাম্মদ বাবুল, গোপালগঞ্জ জেলা কমান্ডার বদরুদ্দোজা বদর, কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোক্তার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা এস এম মোহসীন আলী, খান ওয়ালিউল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মশিউর রহমান খান, খালিদ হোসেন লেবু বক্তব্য রাখেন।

এমএইচ