মিয়ানমার থেকে দ্বিতীয় দফায় ফেরত আনা ৩৭ বাংলাদেশি বাড়ি ফিরেছেন। এর মধ্যে ৩৩ জনকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
৩৭ জনের মধ্যে বাকি ৪ জন অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ায় রেড ক্রিসেন্ট ও আইওএমের জিম্মায় রেখে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সোবহান।
তিনি জানান, গত ২১ মে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে ভাসমান অবস্থায় নৌকা থেকে দেশটির নৌবাহিনী উদ্ধার করে ২০৮ জন অভিবাসী প্রত্যাশীদের। এদের মধ্যে ২০০ জন বাংলাদেশি রয়েছে বলে মিয়ানমার দাবি করে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে গত ৮ জুন বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত ১৫০ জনকে ফেরত আনা হয়। এরপর অপর ৫৮ জনের মধ্যেও দ্বিতীয় দফায় ৩৭ জনকে বাংলাদেশি শনাক্ত করা হয়।
শুক্রবার বিজিবি ও মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন বিভাগের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে এ ৩৭ জনকে ফেরত এনে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রাখা হয়েছিল। এদের কাছ থেকে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে পাচার হওয়ার নানা তথ্য সংগ্রহ করে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরো জানান, ওখানে ৪ জন অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ায় তাদের শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শফি আলম এ ৪ জনকে অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দিয়ে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ মতে এ ৪ জনকে রেড ক্রিসেন্ট ও আইওএম’র জিম্মায় স্বজনদের কাছে পৌঁছনোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩৩ জনকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আইওএম তাদের বাড়ি ফিরতে যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিকতা বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ জানান, পুলিশ প্রশাসন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচার হওয়ার নানা তথ্য সংগ্রহ করেছে। এতে পাচারে জড়িত থাকার ব্যাপারে বেশ কয়েকজন দালাল দায়ী বলে জানা গেছে।
এসব দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্ধার হয়ে ফিরে যাওয়া লোকজনের স্ব-স্ব জেলায় মামলা দায়ের করতে পুলিশ এজাহার পাঠিয়েছে।
জেআই





