মাগুরার মোহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালি ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামে জমাজমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা ও সামাজিক বিরোধের জের ধরে মোক্তার মোল্যা (৬৫) নামে এক ব্যাক্তি খুন হয়েছে। নিহত মোক্তার মোল্লা ওই গ্রামের জলিল মোল্লার ছেলে, সে পেশায় একজন ইট ভাটা শ্রমিক, এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগের দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এ ঘটনায় একটি বাড়িতে অগ্নি সংযোগসহ একাধিক বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, আজ (শনিবার) মোক্তার মোল্যা ভোরে ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের ১০-১২ জন মোক্তার মোল্যার উপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো রামদা, বল্লম দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনাস্থলেই মোক্তার মৃত্যু হয় বলে জানায় পরিবার।
নিহতের স্ত্রী মাজেদা বেগম জানান,‘আমার স্বামী মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে ফিরছিল। এ সময় তাকে কুপিয়ে খুন করে ফেলা হয়েছে। আমার স্বামীর সাথে কারো ব্যেক্তিগত কোন গন্ডগোল নেই। তবে আমার ভাসুর জমির মোল্যা স্থানীয় সামাজিক দলের মাতব্বর হওয়াই জমিজমাসহ সামাজিক বিরোধে প্রতিপক্ষের লোকেরা তাকে খুন করতে পারে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সামাজিক প্রতিপক্ষ এলাকায় জাফর মোল্যা ও আকতার বিশ্বাসের মাঝে জমাজমা সক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে আজ ভোরে আকতার বিশ্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনী মোক্তার মোল্যার উপর আকস্মিক হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে বলে ধারনা করছেন তারা।
নিহত মোক্তার মোল্যা জাফর মোল্যার অনুসারী। এ সময় আরও কয়েক জনকে কুপিয়ে জখম করা হলেও ভয়ে কেউ হাসপাতালে আসতে পারছেন না বলে দাবি করেন তারা।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসালাম জানান, একটি বিরোধপুর্ণ জমির গাছকাটা নিয়ে ঘুল্লিয়া ও শিবরামপুর এলাকার স্থানীয় জাফর মোল্যা ও আক্তার বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন পরস্পরবিরোধী দু’টি সামাজিক দলের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই এক পর্যায়ে আজ সকালে আক্তার বিশ্বাসের সমর্থকরা মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জাফর মোল্যার সমর্থক মোক্তার মোল্লাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মশিউর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে মোক্তার মোল্যা নামে একজনকে গুরুত্বর জখম অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
মোহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক নাথ বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাইফুল্লাহ/এম





