যশোরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া (২৬) মারা গেছেন। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
তার বড়ভাই মোহাম্মদ আলী মিয়া মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া জামতলায় নিজের বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানের সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন বাচ্চু।
এদিকে, বাচ্চু হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ওইদিন কোতয়ালী থানায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলা হিসাবে রূপান্তরিত হবে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আককাছ আলী।
তিনি জানান, এ মামলায় মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে সজীব নামে এক যুবক গুলি করার দায় স্বীকার করেছেন আদালতে। তিনি রেলগেট পশ্চিমপাড়ার নূর ইসলামের ছেলে।
তবে বাচ্চুর পরিবারের ভাষ্যমতে, মূল আসামি ইয়াছিন ধরা পড়েনি। বাচ্চুকে এই ইয়াছিনই গুলি করে পালিয়ে যায়। ইয়াছিন শংকরপুর কাজীপাড়ার মোহাম্মদ এসকেনের ছেলে।
আটক অন্য তিনজন হলেন—শঙ্করপুর পশ্চিমপাড়ার কামাল হোসেনের ছেলে জনি, আশরাফের ছেলে তরিকুল ইসলাম এবং ইবাদ আলীর ছেলে ইমরান।
মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাচ্চু ও তার ভাই মোহাম্মদ আলী মিয়ার রেল জংশনের সামনে ‘আল-আমিন’ নামে একটি খাবার হোটেল দেখাশোনা করতেন। চাঁচড়া রায়পাড়ায় আধিপত্য নিয়ে আসামিদের সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয়। সে সময় থেকে ইয়াছিন তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসতেন। তাকে হত্যারও পরিকল্পনা করেন ইয়াছিন।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাচ্চু রায়পাড়া জামতলায় তার নিজ বাড়ির সামনে শহিদের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় আচমকা ইয়াছিন ও তার সঙ্গীরা এসে তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করেন। দুই রাউন্ড গুলি বাচ্চুর পেটে এবং এক রাউন্ড বাম হাতে বিদ্ধ হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসায় ঘাতকরা পালিয়ে যায়। পরে বাচ্চুকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বাচ্চুর ভাই আলী জানান, শনিবার দুপুরে বাচ্চুর দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত ছিল না। তিন দিন অচেতন থাকার পর বুধবার বিকেলে তিনি মারা যান। তার লাশ বুধবার রাতেই যশোরে আনা হবে বলে তিনি জানান।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আককাছ আলী বলেন, ‘বাচ্চুর মৃত্যুর তথ্য শুনেছি। এই মামলায় মোট চারজন আটক আছে। এর মধ্যে সজীব নামে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু ইব্রাহিমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। বাচ্চুকে গুলি করার সময় সে ঘটনাস্থলে ছিল।’
এএইচ





