‘ও সাংবাদিক ভাই কই যান ক্যামরা হাতে? ছবি তুলবেন? বড়লোকগো ছবি পরে তোলেন। আগে আমাগো তোলেন। আমরা গরীব মানুষ । আমাগো এক কাপড়। আমরা রেডি।’

এভাবে চিৎকার করে প্রতিবেদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা এক বৃদ্ধার ।

শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে মংলা পৌর সভার প্রধান ফটকে গা হেলিয়ে বসে ছিলেন এ বৃদ্ধা।

ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিবেদক কাছে গেলে ওই বৃদ্ধা জানান তার নাম হাসিনা (৫৩)। ভিক্ষাবৃত্তি করে চলে তার জীবন।

কথায় কাথায় হাসিনা বলেন তার জীবনের গল্প।

হাসিনা জানান, একসময় তার স্বামী আব্দুর রব চট্টগ্রামে জাহাজ শ্রমিকের কাছ করতেন। সে সময় তার বিয়ে হয়। ২০ বছর আগে স্বামীকে নিয়ে চলে আসেন মংলায়। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে মংলা বন্দরে জাহাজ আসা বন্ধ হয়ে যায়। বেকার হয়ে পড়েন তার স্বামী। স্বামীর শরীরে বাসা বাধে মরণব্যাধি ক্যান্সার। অর্থের অভাবে চিকিৎসা না পেয়েই কিছুদিনের মধ্যে মারা যান তিনি।

হাসিনা কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, স্বামী মারা যাবার পর তার একমাত্র ভাইও তার কোন খোঁজ নেয় না। প্রথমে মানুষের বাড়িতে কাজ করে চলত তার জীবন। এক সময় তার শরীরে পানি জমতে থাকে। পরে পঙ্গু হয়ে যান তিনি। বর্তমানে ভিক্ষা করে চলে তার জীবন।

হাসিনা যখন কথা বলছিলেন তার পাশে বসে থাকা আরেক ভিক্ষুক আব্দুর রহমান মুখটা এগিয়ে দিলেন ছবি তোলার জন্য।

অপর ভিক্ষুক বক্কর, মোস্তফারও অনুরোধ আগে তাদের ছবিটা তুলতে।

এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পৌরসভার লাইসেন্স শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আবু বক্কার ছিদ্দিক বলেন, মংলা পৌরসভা ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকৃত ভিক্ষুকদের চিহ্নিত করতে মংলা পৌরসভার সকল ভিক্ষুকদের ডাকা হয়েছে। এরা (হাসিনা, রহমান, বক্কর ও মোস্তফা) সকলে ভাইভা দিতে এসেছেন। তারা প্রকৃত ভিক্ষুক কিনা যাচাই-বাছাই শেষে পৌরসভা থেকে তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

ভাইভা চলছে পৌর অডিটরিয়ামে। সিঁড়ি বেয়ে অডিটরিয়ামে গিয়ে দেখা মেলে ভিক্ষুকদের অভিনব ভাইভা। একজন একজন করে ভিক্ষুকদের ডাকা হচ্ছে। প্রকৃত ভিক্ষুকদের দেওয়া হচ্ছে পরিচয়পত্র।

এ সময় ভাইভা বোর্ডে বসা মেয়র জুলফিকার আলীর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন ‘মংলা পৌরসভাকে ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করবো খুব শিগগির। এ জন্য প্রকৃত ভিক্ষুকদের চিহ্নতকরণ চলছে। পরে প্রকৃত ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, তালিকাভুক্ত প্রতিটি ভিক্ষুককে তার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতিমাসে ১০-২০কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এছাড়া ভিক্ষুকদের পরিবারের কেউ কর্মক্ষম থাকলে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী পৌরসভায় অথবা বিভিন্ন কারখানায় চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এম এ