দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের লক্ষ্যে বিধিমালা সংশোধনের কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। বুধবার নির্বাচন পরিচালনা-সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া তৈরি করে নোট উপস্থাপন করেছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

একইভাবে আচরণ বিধিমালার খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের পর অধ্যাদেশ জারি বা সংসদে আইন পাস হওয়ার আগেই বিধি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে কমিশন।
স্থানীয় সরকারের ৫টি স্তরের নির্বাচনের জন্য একই ধরনের বিধিমালা তৈরির বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে সেখান থেকেও ধারণা নেবে কমিশন। সংশোধিত বিধি তৈরিতে আইনের গেজেট হাতে পাওয়ার পরই ইসি এসব বিষয়ে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী এতদিন স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হয়েছে। সম্প্রতি সরকার দলীয়ভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য বর্তমান আইনগুলো পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই ধরে নিচ্ছি, দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের আইন হচ্ছে। সেভাবেই আমাদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিধিমালাতেও প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে আচরণ বিধিমালা আছে, তা নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য করা হয়েছিল। এখন দলীয় ভিত্তিতে হবে, বিধিমালায় এমন সংশোধন আনতে হবে। আইন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিধিমালা পরিবর্তনের কাজ শুরু করব। তবে কিছু কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ করে রাখছি। যতক্ষণ না আইন হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই করতে পারব না। কেননা বিধিমালা করার ক্ষমতা আইনেই দেয়া হবে।


ইসি সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভা ও মার্চে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। দেশে মোট ৩২৩টি পৌরসভা ও ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন উপযোগী ২৭৮টি পৌরসভার মধ্যে ২৩৩টি পৌরসভার নির্বাচনের সর্বশেষ সময়সীমা ১২ মার্চ। বাকি পৌরসভাগুলোর মেয়াদ আরও বেশি রয়েছে। কমিশন ডিসেম্বরে ২৪৫টি নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি পৌরসভা নিয়ে আইনি জটিলতার তথ্য পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এ অবস্থায় নির্বাচনের নতুন বিধিমালা ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা সংশোধনের কাজ শুরু করেছেন কমিশন কর্মকর্তারা। স্থানীয় সরকার সব প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের বিধিমালা তৈরির চিন্তা করছে কমিশন। বুধবার নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনীর একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ওই খসড়া নোটেও উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বিদ্যমান বিধিতে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর জন্য সংরক্ষিত প্রতীকগুলো বিলুপ্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ৬৫টি প্রতীকের সঙ্গে বাড়তি প্রতীক যুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে আচরণ বিধিমালাতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। জাতীয় সংসদের আদলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে আচরণ বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।


এদিকে বিধিমালা তৈরিতে ভারতের নির্বাচনের আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করা হবে জানিয়ে বুধবার ইসি সচিব আরও বলেন, আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে সম্পন্ন করতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে কমিশন। ভারতের স্থানীয় নির্বাচনগুলোর আইন, বিধিমালা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন যোগাযোগ অনেক সহজ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট আছে। ওখানে অনেক কিছু দেখা যায়। আমরা তা দেখেছি। ভারতের পঞ্চায়েত নির্বাচন দলীয়ভাবে হয়। তবে তাদের সঙ্গে এখনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি। ভবিষতে প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করব। তারা কীভাবে নির্বাচন করে সে বিষয়ে আরও জানার চেষ্টা করব।


বাংলাদেশে দলীয়ভাবে নির্বাচনে সবাই গণতান্ত্রিক আচরণ করলে নির্বাচনে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মনে করেন ইসি সচিব। আইনের সংশোধনীর আগেই বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের জন্য বেশি সময় নেই। আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) জন্যও দলীয়ভাবে নির্বাচনের আইন হলে সেভাবেই নির্বাচন হবে। বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উঠেছে। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। আমি সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে পৌরসভা নির্বাচনের আইনটির সংশোধন সংসদ অধিবেশন না থাকায় অধ্যাদেশের মাধ্যমে করার পরিকল্পনা চলছে। কেননা স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনটি আগামী ডিসেম্বরে সম্পন্ন হবে। তাই অন্য নির্বাচনগুলোর আইন পরবর্তী সময়ে সংশোধন করা হতে পারে। সুত্র:যুগান্তর

এমএইচ