ফেলানী হত্যার ৬ বছর পূর্ণ হলো আজ। ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘ভারত তাদের নাগরিক হত্যার বিচার করতে যা যা করা দরকার তারা তাই করতো। কিন্তু আমাদের সরকার চুপ করে আছে।’

আজ ৬ জানুয়ারি সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ের হত্যার বিচারের জন্য আমরা লড়াই করে যাবো। আমার মেয়ে মারা যাওয়ায় আমি যেমন পাগল হয়ে গেছি। আমি চাই না আর কোনো মা তার বুকের সন্তান হারিয়ে পাগল হোক।’

এবার ঢাকায় এসে শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নেন ফেলানীর মা-বাবা।

ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি সাহেবেরও মেয়ে আছে। নিজের মেয়ের জন্য মোদি সাহেবের যেমন মায়া, ফেলানীর জন্য তো আমার তেমনি মায়া।’ ‘ফেলানীকে নিজের মেয়ে ভেবে মোদি সাহেব কেন বিচার করছেন না?’ প্রশ্ন করেন ফেলানীর বাবা।

‘আমরা শুনেছি, অনুমতি ছাড়া সীমান্ত পার হতে গেলে জেলে রাখার আইন আছে। জেলে না দিয়ে কেন আমার মেয়েকে গুলি করে হত্যা করা হলো?’ এই প্রশ্ন বারবার করছিলেন নুরুল ইসলাম।

ফেলানীর বিচার কতোদূর এগিয়েছে- জানতে চাইলে ফেলানীর বাবা কান্না জড়ানো কণ্ঠে বলেন ওঠেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন দ্রুত বিচার হবে। কিন্তু এখনো তো বিচার হলো না। ফেলানীর কবরের পাশে বসে সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ফেলানী হত্যার বিচার হবে। আমার পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব সরকার নেবে। এরপর আর এক দিনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো খবর নেননি।’

ফেলানীর বাবা বলেন, ‘এবার যদি বিচার না হয়, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো। সরকার থেকে কোনো সাহায্য পাচ্ছি না। আমার একার আয়ে সংসার চালাতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। বাচ্চাগুলোকে লেখাপড়া করাতে পারছি না।’

নুরুল ইসলাম ও জাহানারা বেগমের ছয় সন্তান। তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে ফেলানী ছিল সবার বড়। বর্তমানে স্থানীয় নাখালগঞ্জে নূরুল ইসলামের একটা মুদি দোকান আছে। ফেলানীর মা-ও ঘরে বসে ছোট্ট একটা মুদি দোকান চালান।

নুরুল ইসলাম বলেন,‘ফেলানী যদি ভারতের মেয়ে হতো তাহলে ভারত সরকার ঠিক তাদের মেয়ে হত্যার বিচার আদায় করে নিতো।’

এ সময় ফেলানীর বাবা বলেন, ‘আমরা অন্যায়ভাবে দেশে ফিরছিলাম। এটা আমাদের দোষ। কিন্তু তার জন্য আমাদের গ্রেফতার করে জেলে দিতো। আমরা জেল খাটতাম। কেন আমার মেয়েকে গুলি করেছে? আর সেই অপরাধে কেন বিএএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষের বিচার হবে না?

তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে মেয়ের বিয়ের জন্য গয়না গড়ে দিয়েছিলাম। সেই গয়না বিএএসএফ খুলে রেখে দিয়েছে। আমি গরিব, আমার সাথে এমন কেন করা হলো?’

‘বাংলাদেশ সরকার যদি ভারতের সরকারকে না বোঝাতে পারে, কেন জাতিসংঘের সাহায্য নিচ্ছে না’- এমন প্রশ্ন করেন নূরুল ইসলাম।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যার পর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রাখে তার লাশ। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ঝর ওঠে নিন্দার।ফেলানী হত্যার বিচার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার নিশ্চুপ। আর ভারত সরকার তাদের সেনা বাঁচানোর চেষ্টা করছে।দীর্ঘ ছয় বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও মেয়ে হত্যার বিচার না পাওয়ায় এমন আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত কিশোরী ফেলানীর মা জাহানারা বেগম ও বাবা নূরুল ইসলাম।

এআই