লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশি আব্দুর রহিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
আব্দুর রহিম আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চওড়াটারী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান।
বিএসএফের গুলিতে আহত অপর গরু ব্যবসায়ী সুলতান মিয়া (৩৪) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছে।
এলাকাবাসী, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিবি ও নিহতের পরিবার জানান, আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গিরিধারী নদী এলাকার সীমান্তের ৯২৪ নম্বর মেইন পিলারের ৯ নম্বর সাব পিলার এলাকায় দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বিএসএফের ৫/৬ জন সদস্য বাংলাদেশের ৩০০ গজ অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে গুলি বর্ষণ করে। এতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের চওরাটারী এলাকার গরু ব্যবসায়ী সুলতান মিয়া ও আব্দুর রহিম গুলিবিদ্ধ হন। বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রতিবাদ করায় রাবেয়া বেগম, সাজু ও সুমনকে বেদম মারপিট করে আহত করে বিএসএফ সদস্যরা চারটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়।
রংপুর ও আদিতমারী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ আব্দুর রহিম (২৮) ও সুলতান মিয়াকে (৩৪) প্রথমে আদিতমারী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া সাজু হোসেন (৪৩), সুমন (৪১) এবং ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৫) কে আদিতমারী উপজেলা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ আব্দুর রহিম রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ময়না তদন্ত শেষে লাশ বাড়ি আনা হয়েছে।
লালমনিরহাট- ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মোগলহাট কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শামসুল হক বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি ফালাকাট ২১- বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বারথার (সিঙ্গীমারী) ক্যাম্পের ৫/৬ জনের একটি টহল দল অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করায় স্থানীয়রা তাদের ঘেরাও করার চেষ্টা করে। বিএসএফ সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে চারটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট- ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আহমদ বজলুর রহমান হায়াতী বলেন, এ ঘটনায় পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকে বিষয়টি সুরহার চেষ্টা চলছে।
কেএইচ





