রিকশা চালকরা বলছেন, ‘পেটের তাগিদে তারা সড়কে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন। কোথাও কোনও খাদ্যসামগ্রীও তারা পাচ্ছেন না। মাঝে মাঝে পেলেও তা দুই-তিন দিনের বেশি যায় না। এ অবস্থায় তাদের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো গতি নেই’।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কয়েকজন রিকশা চালকের সাথে কথা বললে তারা এ প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।
এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে পুলিশ। এতে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই তা মানছেন না। কারণে অকারণে বাসা থেকে বের হয়ে পড়ছেন কেউ কেউ। এ অবস্থায় মাঝে মাঝে কঠোর অবস্থানে যেতে হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে রিকশা আটকে দেওয়া হয়। এছাড়া রিকশা কমাতে নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুর, শান্তিনগর, রামপুরা আসাদগেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশ সেখান থেকে বেশ কয়েকটি রিকশা আটক করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সবাইকে নিজ গৃহে অবস্থানের জন্য বলা হলেও অনেকে তা মানছেন না। তাই মানুষকে ঘরে রাখতে বাধ্য হয়েই তারা নানা অভিযান পরিচালনা করছেন।
রিকশা উল্টে রেখেছে পুলিশরাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় কথা হয় আসলাম উদ্দিন নামে এক রিকশাচালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের একটি ছোট বাসা ভাড়া করে থাকি। আমার স্ত্রী অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করতো। ছেলেও ছোট একটি চাকরি করতো। তাদের বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের কোনও কাজ নেই। বাসায় কোনও খাবার নেই।
এ কারণে বাধ্য হয়েই রাস্তায় বের হয়েছি। রিকশা চালিয়ে কিছু টাকা পেলে সেগুলো দিয়ে রাতে চাল-ডাল নেবো। কিন্তু বাসা থেকে বের হয়ে এখানে আসার পরই পুলিশ রিকশাটা নিয়ে যায়। সকাল থেকে এখন দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। কিন্তু রিকশা ফিরিয়ে দিচ্ছে না। পুলিশ বলছে, ২৫ তারিখের পরে আসতে।’
কারওয়ানবাজার পান্থপথ মোড়ে গিয়ে দেখা যায় বেশ কয়েকটি রিকশা আটকে রেখেছে পুলিশ। রিকশাগুলোকে সড়কে উল্টে রাখতে দেখা গেছে। এ সময় বহু রিকশাচালককে কাঁদতে দেখা দেখা গেছে।
এছাড়া বিনাকারণে বাসা থেকে বের হওয়া মানুষকে ঘরে ফেরাতে নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাইকিং করতে দেখা গেছে। কিন্তু এরপরও বহু নগরবাসীকে পাড়ামহল্লায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। অনেককে সড়কের প্রবেশপথ বন্ধ করে ভেতরে খেলাধুলা করতেও দেখা গেছে।
রিকশা উল্টে রেখেছে পুলিশসোমবার সকালে খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি গলির প্রবেশপথ বন্ধ করে ভেতরে খেলাধুলা করছে এলাকার যুবকরা। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের কাউন্সেলিং করা হয়। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় বাসায় থাকতে অনুরোধ করা হয়।
এমআর





