৫ জানুয়ারি একটি অংশগ্রহণহীন জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষ যে আস্থা হারিয়েছে সেটা আসন্ন ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে পুন:প্রতিষ্ঠা করাতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংগঠন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) আয়োজিত ‘সিটি নির্বাচন-২০১৫’ শিরোণামে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. তালেয়া রেহমান বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অবাধ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আমাদের যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। যেহেতু দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে তাকে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। যেন ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি সমর্থীত প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলে লেবেল প্লেইং ফিল্ড পাবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. তালেয়া রেহমান বলেন, ‌বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের। আমরা আশা করছি তারা সেটা পারবেন।

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, আমরা জানি যে এটি একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তার পরও বস্তবতা হল এখানে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা ছাড়া আর সব কিছুই দলীয়ভাবে হয়। তবে আমরা আশা করবো নির্বাচনে যেন সকল পক্ষের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়েও সংশয় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে ইডব্লিউজির পরিচালক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেছে। আমরা আশা করবো এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেই আস্থা ফিরিয়ে এনে মানুষের বিশ্বাসকে পুন:প্রতিষ্ঠা করবে।

আব্দুল আলীম বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একটি অস্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে আয়োজন করা হচ্ছে। প্রার্থীরা যাতে নির্ভয়ে মনোনয়ন পত্র দাখিল ও নির্বাচনী প্রচরণা চালাতে পারে নির্বাচন কমিশনকে একটি ব্যাপক ভিত্তিক নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করতে হবে। নির্বাচনের সময়ে ভীতিকর অবস্থা এড়াতে সকল পক্ষ নির্বাচনী নীতিমালা মেনে চলবে বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, সকল পক্ষ যাতে সমান সুযোগ পায় এবং কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যেন কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনী বিরোধ নিশ্চপত্তিতে প্রভাব না ফেলে তা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইডব্লিউজির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ড. হারুন অর রশিদ, বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, এএই্চএম নোমান প্রমুখ।

এমএ/কেএইচ