মিথ্যা আক্রমণের দাবি করে আইএস বাংলাদেশে ধর্মীও মৌলবাদের উত্থান ঘটাতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, দেশের স্থানীয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠী এই হামলা চালাচ্ছে এমন যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের মূল আস্তানা হারিয়ে ফেলায় এবং অর্থের খোরাক ফুরিয়ে যাওয়ায় আইএস এখন লিবিয়া, মিশর ও বাংলাদেশের মত দেশগুলোর জিহাদিদের বেছে নিচ্ছে যাতে স্থানীয়ভাবে স্বল্প খরচে হামলা চালানো যায়।
কিন্তু রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহরিয়ার আলম এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, 'তাদের দাবিগুলো (খুন করা প্রসঙ্গে) নিশ্চিতভাবেই মিথ্যা। কিন্তু আমাদের সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে একমত হয়েছি, বিষয়টি নিয়ে কোন বিতর্কে যাবো না আমরা। কারণ এটা একটা ভুল বার্তা দেয়।
'বাংলাদেশে নজিরবিহীন ভাবে মানবাধিকার ও মুক্তচিন্তা হুমকির মুখে পড়ছে' এবং ঢাকাকে তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের হুঁশিয়ারির একদিন পরেই এ কথা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১৬ কোটি মানুষের এই মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন মুক্তমনা ব্লগার, একজন প্রকাশক ও দুইজন সমকামী অধিকার আন্দোলনের কর্মী রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড গুলোর মধ্যে বেশ কিছুর জন্য আল-কায়েদা দায় স্বীকার করলেও গত বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মনিটরিং ওয়েব সার্ভিস 'সাইট' এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কিন্তু বিষয়টিকে সঠিক হিসেবে মনে করছেন না শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, তারা শুধু 'স্রোতের সঙ্গে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে'। আসলে এই হত্যাকাণ্ড গুলোর সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্কই নেই। তিনি আরো বলেন, সিরিয়া থেকে আমরা জেনেছি আইএস এবং আল-কায়েদা একত্রে কাজ করতে পারে না। কিন্তু মজাদার বিষয় হল- একটি খুনের জন্য উভয় পক্ষ দায় স্বীকার করছে।
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে হত্যাকাণ্ড গুলোর সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে থাকা জঙ্গি গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও জামাত-উল-মুজাহেদি জড়িত। তারা ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমের জন্য এই হামলা চালাচ্ছে। সরকারের তদন্তের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদ (সারাবিশ্বে) বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কি হুমকির মুখে আছে? আমি বলব, হ্যাঁ, আছে।
কারণ এই দেশে শিক্ষার হার এখনও অনেক কম। সেই সঙ্গে রয়েছে বেকারত্ব। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে নিজেদের আস্তানা তৈরি করতে পারেনি বিশ্বের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো।' রয়টার্স
এমআর





