শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা অলস পড়ে আছে। শুধুমাত্র পরিকল্পনার অভাবে একটি টাকাও খরচ হয়নি। ফলে শিশুদের জীবনমান উন্নয়নের চিন্তা শুরুতেই আটকে গেছে।

জানা গেছে, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ৪টি মন্ত্রণালয় দিয়ে শুরু হওয়া শিশু বাজেটের প্রথম দফায় ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তা খরচ হয়নি। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্দ আগের বছরের চেয়ে ৪০ কোটি বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করা হয়। একই সঙ্গে এ কাজে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা চার থেকে বাড়িয়ে ৭ করা হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ৭টি মন্ত্রণালয়ের আমলতান্ত্রিক উদাসিনতা, যথাযথ পরিকল্পনার অভাব ও শিশুদের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীও উদ্বিগ্ন। শিশু অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার অভাবে ভুক্তভোগি হচ্ছে শিশুরা। তবে মন্ত্রণালয় বলছে, এজন্য তৈরি হচ্ছে কর্মপরিকল্পনা।

কেন শিশুর জন্য থোক বরাদ্দকৃত টাকা খরচ হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এম মান্নান বলেন, এই টাকা ব্যয় করার মতো সক্ষমতা মন্ত্রণালয়গুলো এখনও দেখাতে পারেনি। এমন সব পরিকল্পনা আসে যা গ্রহণযোগ্য হয় না।

এমনও মন্ত্রণালয় আছে যারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কোন পরিকল্পনাও করেনি। যথাযথ পরিকল্পনা করার মতো মেধার অভাব ও শিশুদের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাবও এর জন্য দায়ী। তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থ কেন কাজে লাগানো যাচ্ছে না বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও উদ্বিগ্ন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এ ব্যাপারে বলেন, শিশুর জীবনমান উন্নয়নে বরাদ্দকৃত টাকার সদ্ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিশুদের বিষয়টি একটি আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়। তাই শুধু তাঁর মন্ত্রণালয় একা কাজ করলে অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

শিশুদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন ‘সেন্টার ফর সার্ভিসেস এন্ড ইনফরমেশন অফ ডিজএবিলিটিজ’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি শিশুবান্ধব বাজেটের দাবি করা হয়েছিল। এ জন্য সরকার বাজেট বরাদ্দ করলেও শুধুমাত্র পরিকল্পনার অভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

জাতীয় সংসদের শিশু অধিকার বিষয়ক ককাসের সভাপতি মীর শওকত আলী বাদশা এমপি বলেন, বাজেট বরাদ্দ হলেও উদ্যোগের অভাবে কাজ হচ্ছে না। টাকা অলস পড়ে আছে। ‘সেভ দ্যা চিলড্রেনে’র পাবলিক, ফাইন্যান্স এন্ড গর্ভানেন্স বিভাগের এডভাইজার আশিক ইকবাল বলেন, শিশু বাজেটের বিনিয়োগকে আমরা দুইভাবে বিবেচনা করি। প্রথমত গুণগত, দ্বিতীয়ত পরিমাণগত। শিশুর সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ কাজে লাগানো প্রয়োজন।

এমএনজে