আজ থেকে শুরু হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০১৬। এ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জনগণের আস্থার প্রতীক এবং বিপদের বন্ধু। অগ্নিনির্বাপণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো দুর্ঘটনায় প্রথমেই জনগণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহযোগিতা কামনা করে।

এ অধিদপ্তরের নিবেদিত কর্মীদের তাৎক্ষণিক উপস্থিতি বিপদগ্রস্ত মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। তাই এ অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কর্তব্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই তা মানবহিতৈষী।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে কর্মরত ফায়ার ফাইটার, ডুবুরিসহ উদ্ধারকাজে নিয়োজিত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ খুবই জরুরি বলে আমি মনে করি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালনের উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়।

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে জনজীবনের নিরাপত্তা বিধানে এ অধিদপ্তরের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রথম সাড়াদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ায়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা গেলে দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

পৃথক এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর একটি জরুরি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে এ সার্ভিসের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ভূমিকম্প, অগ্নি দুর্ঘটনা, নৌযান দুর্ঘটনা ও সড়ক দুর্ঘটনাসহ যেকোনো দুর্যোগে এ বিভাগের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কাজে অংশ নেন। জনগণের জান-মাল রক্ষা করেন।

আওয়ামী লীগ সরকার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য গত আট বছরে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। আমরা অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ বিধিমালা ২০১৪ প্রণয়ন করেছি। নতুন নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কাজের জন্য সর্বাধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছি। কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

আমরা এ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছি। ফায়ার সার্ভিসের সব কর্মীর জন্য পূর্ণাঙ্গ রেশন সুবিধা, ৩০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা ও মর্যাদাপূর্ণ নতুন পোশাক প্রবর্তন করা হয়েছে। সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় পদকের সংখ্যা ও সম্মানীর পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আমাদের এ সকল পদক্ষেপের ফলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীগণ অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে আরো উদ্যমী হয়েছেন। আমি আশা করি, এ বিভাগের কর্মীরা সাহস, দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যেকোনো দুর্যোগে প্রথম সাড়াদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের জান-মাল রক্ষায় আরো যত্নবান হবেন।

এমএনজে