ভোলা জেলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী মহল। মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন এ মহলগুলো।
বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে। তার পরও বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ নদীভাঙ্গন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ভোলা।
এ ছাড়াও মাছের প্রজনন ক্ষেত্র নষ্টসহ নানা দুর্যোগ ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলের বিভিন্ন এলাকা। এ জেলায় বালু মহাল না থাকার পরও বালু উত্তোলনের ঘটনায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পবিবেশকর্মী, সুশিল সমাজের প্রতিনধি, ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষ।
নদী ভাঙ্গন রোধে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যে মুহুর্তে ভোলাবাসী নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন ঠিক সে মুহুর্তে স্থানীয় প্রশানসের নাকের ডগায় মেঘনার ইলিশা, রামদাসপুর, গঙ্গাপুর, মাঝের চর, দৌলতখানের বিচ্ছিন্ন চরসহ বেশ কিছু স্থানে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। ছোট-বড় চর, ডুবোচর কেটে সাবার করছে তারা।
এতে নদীর গতি পরিবর্তন হয়ে শীত মৌসুমেও ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। ভাঙ্গন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন উপকূলবর্তী এলাকার মানুষ।
এক দিকে মেঘনার ভাঙন প্রতিরোধে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। অপর দিকে লাখ লাখ টাকা আয়ের লোভে বালু উত্তোলন করে মেঘনার ভাঙন তীব্র করা হচ্ছে।
একইভাবে আইন অমান্য করে ইটভাটাগুলোতে বন উজার করে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে লোকালয়। বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। অথচ প্রশাসন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
ভোলাবাসীর দাবি এ জেলার মন্ত্রীরা উদ্যোগী হলে এসব অন্যায় অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব। এতে মেঘনার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে ভোলা, রক্ষা হবে পরিবেশ।
সরকার মেঘনার ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ করলেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ওই প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভোলা ও লক্ষীপুরের ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি এ বালু উত্তোলনের কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে একটি রিট হলেও বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলন। তবে জেলা প্রশাসক জানালেন বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চলছে।
এমকে





