সুন্দরবনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলেরে দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলছে মহাসমাবেশ। সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে উজ্জীবিত রাখতে সঙ্গীত পরিবেশন করছে সাংস্কৃতিক সংগঠন সমগীত। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে ‘গো ব্যাক, গেট আউট ইন্ডিয়া’।
শনিবার বিকেল ৩টা নাগাদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে শহীদ মিনার চত্বর ও তার আশপাশের এলাকা।
দুপুর ১২টার পর বিভিন্নস্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আন্দোলনে সংহতি জানাতে আসছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
সুন্দরবনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের দাবিসহ তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মহাসমাবেশে শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, জারিগান ও কবিতা আবৃত্তি শুরু করে। বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত চলে এসব সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। বেলা ২টার দিকে এখানে মহাসমাবেশের মূল পর্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিকেল পৌনে ৩টার দিকে জাতীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স মহাসমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।
মহাসমাবেশে এরই মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, জাতীয় কমিটির নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, হায়দার আকবর খান রনো, কমরেড খালেকুজ্জামান, আলতাফ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক বদরুল ইনাম, কমরেড বজলুর রশিদ, জুনায়েদ সাকি, মোশারেফা মিশু, কল্লোল মোস্তফা ও টিপু বিশ্বাস প্রমুখ।
অন্যদিকে, এ সমাবেশে এবং জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় দেশের ৭টি বিভাগের ৭ প্রান্ত থেকে কর্মীরা যাত্রা শুরু করেন।
এর মধ্যে খুলনার রামপাল, রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুরের পঞ্চগড়, ময়মনসিংহের নেত্রকোনা, চট্টগ্রামের কক্সবাজার, বরিশালের পটুয়াখালী ও সিলেটের সুনামগঞ্জ থেকে এই যাত্রা শুরু হয়। পথে তারা জেলায় জেলায় পথসভা করতে করতে শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেন।
আয়োজক সংগঠন তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক জনতা এই মহাসমাবেশে উপস্থিত হবে। মহাসমাবেশ সফল করতে এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তেল-গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ মহাসমাবেশের ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। আশা করছি, সরকার বাধা দেবে না। এ ব্যাপারটা আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে জানিয়েছি।’
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দিয়ে সরকার সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন আনু মুহাম্মদ।
দেশের বাম দলগুলো এ সমাবেশে অংশ নিলেও দ্বিমত পোষণ করে এই কর্মসূচি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে সরকারের অন্যতম শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি। তারা সুন্দরবন রক্ষা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থানান্তরের দাবিতে আগামী ৩ ডিসেম্বর সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বলে জানা গেছে।
জারিফ





