বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নেপালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামীকাল মঙ্গলবার নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা সফরে আসছেন। এই সফরেই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।
এই সমঝোতায় নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি, দেশটিতে যৌথ বিনিয়োগে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ এবং পারস্পরিক সহায়তার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে জোর দেয়া হচ্ছে।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী রাধা কুমারী গাওয়ালীর ঢাকা সফরে বিদ্যুৎ আমদানি এবং যৌথ বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ নেপালের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বুধবার পর্যন্ত ঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করবেন।
এদিন বেলা ১১টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। বৈঠকে নেপালের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন রাধা কুমারী গাওয়ালী। এ বৈঠকেই এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।
এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করবেন নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী। এসময় দুই দেশের বিদ্যুত খাতের সহায়তা সম্প্রসারণে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। সমঝোতার আলোকে নেপাল-বাংলাদেশের সচিব পর্যায়ে একটি যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি এবং একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি দুই দেশের বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করবে।
নেপালে বিনিয়োগে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়া যায় কি না সে বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। মন্ত্রী এ বিষয়ে বাংলামেইলকে বলেন, ‘ক্রস বর্ডার ইলেক্ট্রিসিটি ট্রেড (আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য) নিয়ে আমরা আলোচনা শুরু করছি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন করা হবে। আমরা ভারতের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছি। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় এভাবে বিদ্যুতের বিনিময় রয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন করে বিদ্যুৎ জ্বালানির বিনিময় বৃদ্ধি করতে।’
সূত্রমতে, নেপালে ৮০ হাজার মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তারা বর্তমানে মাত্র ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতেই দৈনিক ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত, নেপাল এবং ভূটানের ব্যাপক জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও জলবিদ্যুতের বেশিরভাগ উৎসই ব্যবহার করতে পারছে না এসব দেশ। ভারত অরুণাচল প্রদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃদেশীয় গ্রিড সংযোগের ক্ষেত্রে ভারতকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এতদিন নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলায় সেখানে কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে কোনো দেশ সম্মত হচ্ছিল না। এখন এই অস্থিরতা কমে যাওয়ায় নেপাল সরকার বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে চাইছে। সেক্ষেত্রে তাদের জলবিদ্যুতের ব্যাপক উৎস দেশটির জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিতে পারে। নেপাল সরকার চাইছে দ্রুত বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু করতে। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চিন্তা করছে। ভারতের বেসরকারি খাতের সঙ্গে তাদের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, নেপাল এবং ভূটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ছিল ভারত। বাংলাদেশ চাইলেও ভারত এ বিষয়ে আলোচনায় সম্মত ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি ভারত বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নেপাল, ভূটান, ভারত, বাংলাদেশ মিলে দিল্লিতে একটি চতুর্দেশীয় বৈঠক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। এখন ভারতের প্রতিবন্ধকতা না থাকলে দ্রুতই এই খাতের সম্প্রসারণ সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
ঢাকা, ৪ আগস্ট (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





