জামায়াত কর্মী ভাইকে গ্রেফতারে বাধা দেওয়ায় পুলিশের গুলিতে পা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হলেন হতভাগী বোন। পুলিশের দাবি এই গুলি ছিলো আত্মরক্ষার্থে।
এই ঘটনা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সাতকানিয়ায় স্থানীয় জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করতে যায় পুলিশ। এ সময় ভাইকে গ্রেফতারে বাধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই জামায়াত কর্মীর বোন সজোয়ারা বেগম সাজুর পায়ে (৪০) গুলি করে পুলিশ।
পুলিশের এমন অমানবিক আচরণে পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
পরিবার সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের এই ঘটনার মাত্র দুই দিনের মাথায় সাজুকে প্রাণে বাঁচাতে গুলিবিদ্ধ পা কেটে ফেলা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় সাতকানিয়া থানা পুলিশের এসআই ইয়াছির আরাফাত ও এএসআই আনছারুল হক উপজেলার তেমুহুনি খুট্টাপাড়া এলাকার আব্দুশ শুক্কুরের ছেলে জামায়াত কর্মী মো. ওসমানকে (২৭) গ্রেফতার করতে যান।
তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়িতে অবস্থানরত ওসমানের বড় বোন ওসমানকে কেন গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে পুলিশ তার বুকে বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করে। তবুও ভাইকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানান তিনি। এসময় লোকজন জড়ো হলে পুলিশ গ্রেফতারকৃত ভাইয়ের সামনেই বোনের বাম পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে ওসমানকে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সাজুকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আশ-শেফা হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সর্বশেষ সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শুক্রবার ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা তার বাম পা কেটে ফেলেন।
এদিকে গত শুক্রবার সকালে থানা হাজতে আটক থাকা জামায়াতকর্মী ওসমানকে দেখতে গেলে বোন সানোয়ারা সানু, (২৭) মর্জিনা (১৯) এবং ছোট ভাই ফোরকানকে (১৫) আটক করে কোর্টে চালান দেয়া হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওসমান একজন নিরীহ রিক্সাচালক। শুধুমাত্র জামায়াতকে সমর্থন করায় তার পরিবারের ওপর এমন বর্বর পুলিশি নির্যাতন নেমে এসেছে। এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খালেদ হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত ওসমান জামায়াতকর্মী। তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ বাধার সম্মুখীন হয়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়।
তিনি আরো জানান, পুলিশের কাজে বাধা দেয়ায় এসআই ইয়াছির আরাফাত বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
এএইচ





