কুমিল্লায় গৃহকর্মী হত্যা মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী নাজনীন আক্তার লিপিকে শুক্রবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মামলা করেন নিহত গৃহকর্মী রিনা আক্তারের বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মোহাব আলী। ওই মামলার একমাত্র আসামি ফেনীর ফুলগাজী থানার এসআই আবু জাহের মোল্লার স্ত্রী নাজনীন আক্তার লিপি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গৃহকর্মী রিনা আক্তারের (১৭) লাশ রেখে পালিয়ে যান নাজনীন আক্তার লিপি।

কিন্তু দিনভর লাশের পরিচয় পাওয়া না গেলেও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ নগরীর জিলা স্কুল রোডস্থ সমতট ল্যাগাসী নামে ১২তলা ভবনের তিন তলার বাসা থেকে লিপিকে গ্রেফতার করে।

কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সালাউদ্দিন মাহমুদ জানান, নিহতের শরীরে নির্যাতন ও আগুনের ছ্যাঁকা চিহ্ন এবং হাতের নখ উপড়ানো ছিল।

রিনার বাবার বরাত দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল হোসেন জানান, ছোটবেলায় রিনার মা মারা যান। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করলেও তাকে কোন পারিশ্রমিক দেওয়া হতো না।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তার লাশ গ্রামে বাড়ির পাশে কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খোরশেদ আলম জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত নাজনীন আক্তার লিপিকে আসামি করে হত্যা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। তাকে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইআর