বেনাপোলের বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতিনে ৩১ হিন্দু পরিবার দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে শারীরিক নির্যাতিত ৩৭ জন হিন্দু যৌর্থভাবে বেনাপোলের শাখারিপোতা বাজারে এক সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে নির্যাতনের করুন কাহিনী বর্ননা করেন। তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুলের সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতিনে হাত থেকে প্রতিকার চেয়েছেন সরকারের কাছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মফিজুর রহমানের বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হায়দার আলি, নিয়ামত আলি, আব্দুর রহমান, মনতাজ আলি, রাহাতুন নেছা, আলেয়া বেগম, রাশেদা খাতুন, ইকবাল হোসেন, নাসির উদ্দিন, এনায়েত আলির মতো ৩৭ জন দরিদ্র মানুষ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,গত ৫ বছরের মধ্যে ওই ৩১ হিন্দু পরিবার দেশত্যাগ করেন। বাকিদেরও দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে আরো ২০০ শতাধিক পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
এদিকে শাখারিপোতা বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শেখ জামাল উদ্দিন বলেন, শাখারীপোতা প্রায় ২০০ ঘর বাগদি সম্প্রদায় বসবাস করতেন। এরমধ্যে পরিতোষ দাস, গুপীনাথা দাস, গোডাদাস, শাতীল পাত্র, রেপকী দাস, রবেন বিশ্বাস, সাধন কুমার, সোনাচাঁদ, মনোহার বিশ্বাস, খিতিব চন্দ্র, দুলাই কানাইসহ ৩১ হিন্দু পরিবার দেশছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য এখনই প্রতিকার হওয়া জরুরি।
শেখ জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ধান্যখোলা গ্রামের প্রয়াত আনোয়ার আলির ছেলে মফিজুর রহমান বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার নামে বেনাপোল পোর্ট থানায় ৪টি মামলা থাকলেও পুলিশ তাকে আটক করে না।
তিনি বলেন, মফিজুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে। মফিজুর রহমান জোর করে বাহাদুরপুর কালিয়ানী বাওড় বিগত ৭ বছরের বেশি সময় দখল করে মৎস্যজীবীদের পেটে লাথি মেরে চলেছেন।
তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, মফিজুর রহমান বাওড়ে কেউ মাছ ধরতে নামলে তাকে মারপিট করে। তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ৩১টি হিন্দু পরিবার দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছে বলেও তিনি শিকার করেন।

তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ গত ১৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরকে লিখেছেন। এছাড়া মফিজুর রহমান ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কথা লিখে প্রধানমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, ডিআইজি, র্যা ব সদর দপ্তর ও পুলিশ সুপার বরাবর লেখা হয়েছে। কিন্তু প্রতিকার হয়নি।
এবিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, মৎস্যজীবীরা এধরনের অভিযোগ দিলে তিনি শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছিলেন। তবে ওই আবেদনে হিন্দুদের দেশত্যাগের কথা বলা ছিলো কিনা মনে পড়ছে না। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত মফিজুর রহমান এসব অভিযোগ অসত্য দাবি করে বলেন, বাওড় দখল করতে একটি মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছে। তিনি বলেন, হিন্দুদের মেয়ের বিয়ে থেকে সব কাজে তিনি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন। তাহলে তিনি কেনো তাদের নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেবেন।
একে





