অবৈধভাবে কালভার্ট বন্ধ করে মাছের ঘের ও ভেড়ি-বাধ তৈরি করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যশোরের শার্শা উপজেলাধীন ভারত সীমান্তবর্তী রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘ ২ মাস যাবত পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ কারনে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাসহ গ্রামের সাধারণ জনগণ।
উল্লেখ্য, গত জুলাই-আগস্ট ২ মাসের অতিবর্ষণ ও আগস্ট মাসে ভারতীয় পানির ঢলে সীমান্তবর্তী বেনাপোল ও শার্শার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়।
অতিবর্ষণ ও ভারতীয় পানির চাপে এ অঞ্চলের বি¯তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। নিম্নাঞ্চল থেকে উচু এলাকায় চলে আসতে শুরু করে বন্যা কবলিত মানুষ। ভারতের সীমান্তবর্তী ইছামতি নদীর পানির চাপে বেনাপোলের পুটখালি , বাহাদুরপুর, বারো পোতা শার্শার ডিহি, গোগা, রুদ্রপুর ও ল²ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বিস্তৃর্ণ এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে।
একাধিক সমস্যা ও তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (স্থাপিত-১৯২৭ সাল) গিয়ে দেখা যায় যে, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠসহ গ্রামের বেশ কিছু ঘর-বাড়ি, ফসলের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রয়েছে। পানি বের হওয়ার একমাত্র কালভার্টটির মুখ বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, প্রভাবশালীদের অপরিকল্পিত ভেড়িবাধ, মাছের ঘের, কালভাটের্র মুখ বন্ধ ও উন্মুক্ত বেতনা নদীতে সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করে পাটা বাধদিয়ে মাছ চাষ করার ফলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
তারা আরও জানান যে, রুদ্রপুর গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি আলমগীর হোসেন অবৈধভাবে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিয়ে মাছের ঘের তৈরি করেছেন।
যার কারনে ভোগান্তিতে পড়েছে রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাসহ গ্রামের পানিবন্দি সাধারণ মানুষ।
রুদ্রপুর স: প্রা: বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ জানান, জলাবদ্ধতার কারনে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে। এ কারনে তারা নানাবিধ পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে এবং স্কুলে আসতে পারছেনা।
এ বিষয়ে আমরা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেছি।
কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। শিঘ্রই এ বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুকতার আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা স্থানীয়ভাবে অনেকবার চেষ্টা করেও বিফল হয়েছি। সে জন্য আমরা এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেন অতিদ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রব আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, বিষয়টি আমি কয়েকদিন আগে শুনেছি কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা না করে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করা সম্ভব নয়। খুব শিঘ্রই আলোচনা সাপেক্ষে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এসএইচ





