চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অপরাধে সাজা হওয়া বন্ধুকে ছাড়াতে এসে তাদের ১১ জন বন্ধু এখন শ্রীঘরে।

তদবিরে আসা ওই ১১ জনকে তিনদিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার রাতে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম এ রায় দেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার বিকালে শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের ধুমারবাগান এলাকায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে পাঁচ যুবক। এসময় এলাকাবাসী তাদের আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটককৃতরা হলো- উপজেলার সোনামসজিদ এলাকার মির্জাপুর গ্রামের মুখলেসুরের ছেলে নাহিদ (১৯), একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সোহেল (১৮), আবদুল কুদ্দুসের ছেলে আবদুর রাজ্জাক (২২), শহিদুল ইসলামের ছেলে সুজন (১৮) ও নরসিংহপুর ইংলিশ গ্রামের দিলশাদ আলীর ছেলে নাজমুল (২৬)।

রাতে পুলিশ ওই পাঁচজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করলে তাদের প্রত্যেককে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম।

রোববার বেলা ১১টার দিকে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

এদিকে রোববার সকাল ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইউএনও শফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে সাজাপ্রাপ্ত ওই পাঁচজনকে নির্দোষ দাবি করে তাদের আরও ১১ বন্ধু। এসময় উত্ত্যক্তকারীদের পক্ষে তদবির করার অপরাধে ওই বন্ধুদের তিনদিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন ইউএনও।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ১১ জন হলো- শিবগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকার মির্জাপুর গ্রামের মুখলেসুর রহমান পালানুর ছেলে নাইম (২০), একই গ্রামের আরশাদের ছেলে মাযহারুল (১৮), খাইরুলের ছেলে বাদশা মিয়া (১৯), জমশেদের ছেলে নাজমুল হক (১৯), হুমায়নের ছেলে মুক্তার আলী (১৯), মোস্তফার ছেলে জামিরুল (২০), বিশারতের ছেলে পলাশ (১৮), এনামুল হকের ছেলে সিরাজুল হক (১৯), আকতার হোসেনের ছেলে হযরত আলী (১৯), কর্ণখালী গ্রামের মফিজের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২১) ও হাউসনগর গ্রামের তৈমুর রহমানের ছেলে আসমাউল হুসনা (১৯)।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)শফিকুল ইসলাম জানান, ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ বখাটের সাজা কমানোর জন্য সুপারিশ করায় ওই ১১ জনকে তিনদিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

জারিফ