রাজধানীর কল্যাণপুরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ত্বরিৎ পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে একটা বিরাট, ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে।
কল্যাণপুরের ঘটনায় নিহত সন্ত্রাসীরা নাশকতা ঘটানোর জন্য তৈরি ছিলো বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধনকালে এসব কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কল্যাণপুরে সন্ত্রাসীরা ঘটনা ঘটাবে বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলো। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ‘মধ্যরাতে ঘেরাও দেওয়া হয় এবং ভোর ৫টায় অপারেশন চালানো হয়। ৯ জন সন্ত্রাসী মারা গেছে, একজন আহত অবস্থায় ধরা পড়েছে, একজন পালিয়ে গেছে’।
‘অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে অপারেশন করা হয়। এরা যেকোনো ধরনের নাশকতা ঘটানোর জন্য তৈরি হয়েছিলো’।
সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইদানিং শুরু হয়েছে ধর্মের নামে মানুষ হত্যা। পবিত্র ধর্ম ইসলাম। ইসলাম শান্তির কথা বলে, সৌহার্দ্যের কথা বলে, অন্য ধর্মকে সম্মান করার কথা বলে। যা পবিত্র কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা আছে’।
‘অথচ এরা ধর্মের নাম নিয়ে মানুষ খুন করে। কতো নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করে তারা, তা অকল্পনীয়। এ নতুন উপসর্গ যেকোনোভাবে মোকাবেলা করতে হবে’।
গুলশানের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বলে আমরা সফলভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি’।
শেখ হাসিনা বলেন, 'সন্ত্রাস অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে, প্রতিরোধ করতে হবে।'
‘মানুষের জীবন নিরাপদ করতে হবে। আমরা চাই না আমাদের দেশটা সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হোক’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলাল উদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বেগম জিনাত আরা, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
এমআইএস





