উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজধানীর চাঁনখারপুল মোড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দেড় বিঘা জমির উপর অবৈধভাবে ৩ তলা মার্কেট নির্মাণ করেছে সরকার সমর্থিত একটি জালিয়াত চক্র। নবনির্মিত মার্কেটটি যে কোন দিন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করা হতে পারে।
এদিকে নগর ভবন থেকে মাত্র ৮০০ গজ দূরেই ডিএসসিসির ১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের জমির উপর এতো বড় একটি মার্কেট অবৈধভাবে নির্মাণ করা হলেও জানতে পারেনি সিটি করপোরেশন কর্মকর্তারা।
ডিএসসিসি'র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনছার আলী খান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, সম্পত্তি ও আইন বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে এই বিষয়টি অবহিত করেননি। দখলকারীরা উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানে না। তাই জোর পূর্বক রাতারাতি এই মার্কেটের দোকানগুলো নির্মাণ করেছে।
নিজেদের অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পুলিশও তাদের পক্ষেই কাজ করে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ভয়ে ডিএসসিসির কেউ থানায় অভিযোগ করার সাহস পায় না।
প্রধান নির্বাহী আরও বলেন, আমরা উচ্চ আদালতকে মানি বলেই ওই দিকে যাইনি। তাহলে যারা আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন ,তাদের বিরুদ্ধে আপনারা কেন আদালতকে অবহিত করেননি? এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্পত্তি বিভাগ এবং আইন বিভাগের কেউ আমাকে (প্রধান নির্বাহী) মার্কেট নির্মাণের বিষয়টি অবহিত করেনি। ফলে এ বিষয়টি নিয়ে বিচারিক আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ডিএসসিসি’র একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকতা এবং সম্পত্তি বিভাগের কতিপয় দুর্নীতি পরায়ণ ও অর্থলোভী কর্মচারীদের সহযোগিতায় সরকার সমর্থিত জালিয়াত চক্র রাতারাতি অবৈধ মার্কেট নির্মাণ করেছে।
ডিএসসিসির নগর ভবন থেকে মাত্র ৮০০ গজ দূরে এবং পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নাকের ডগায় উচ্চ আদালতের নিশেধাজ্ঞা অমান্য করে ডিএসসিসি’র জমিতে বিনা বাধায় দাপটের সঙ্গে এই অবৈধ মার্কেটের নির্মাণ সম্পন্ন করেছে।
সরে জমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর চাঁনখারপুল মোড়ে ডিএসসিসির প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের জমির উপর স্ট্রিলের পাত এবং টিনের ছাউনি দিয়ে বিশাল আকৃতির ৩ তলা অবৈধ মার্কেট নির্মাণ এবং মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দোকান গুলো বরাদ্দ সম্পন্ন করেছে ওই জালিয়াত চক্র।
ডিএসসিসির সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে চাঁনখার পুলের ডিএসসিসির ৩৭ দশমিক ৯১ শর্তাংশ জমিতে রাতারাতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এমএম আজিজের সমর্থনে রাজু আহমেদ, বিপ্লব ও মানিক মার্কেট নির্মানের উদ্যোগ নেয়। তারা সেখানে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করে।
গত ২০১২ জুলাই মাসে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে দখল নেওয়ার চেষ্ঠা করে প্রগতি সমবায় সমিতির ব্যানারে আওয়ামী লীগের ওই নেতারা। এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এমএ আজিজ তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
সূত্র মতে, ২০১২ সালে ডিএসসিসি’র সাবেক প্রশাসক জিল্লার রহমানের নির্দেশে র্যা ব ও পুলিশের সহযোগিতায় চাঁনখারপুলের মোড়ের এই জমির উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ডিএসসিসি।
পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রাজু আহমেদ প্রগতি সমবায় সমিতির ব্যানারে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ওই বছর রিট পিটিশন নং-৮৭৮৪/২০১২ দায়ের করেন।
২০১২ সালের ৮ জুলাই বিচারপতি হাসান ফযেজ সিদ্দিক এবং বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন। আদালত একই সঙ্গে ওই রুলের নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাঁনখারপুল মোড়ের এই জমিতে ‘ ষ্টেটাস কো’ বহাল রাখার আদেশ দেয়। এই আদেশের ফলে কোনো পক্ষই ওই জমিতে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ কিংবা অবকাঠমোর আর পরিবর্তন না করার শর্ত আরোপ করে।
আদালতের ওই আদেশের সার্টিফাইড কপি ২০১২ সালের ২৭ অক্টোবর ডিএসসিসির দফতরে পৌঁছে। এর পর ডিএসসিসির পক্ষ থেকে আদালতে রুলের জবাব দাখিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ডিএসসিসি’র প্রধান আইন কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আইন তো কেউ মানে না। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মার্কেট তৈরি করে যাচ্ছে। আমরা অনেক ব্যস্ত, অনেক কাজ আছে। শুধু ওই মার্কেটই নয় নগরীর অনেক জায়গাই অবৈধ ভাবে সম্পত্তি বিভাগ বরাদ্দ দিয়েছে। তাদের কারণেই মামলা মোকদ্দমার সংখ্যা বাড়ছে। এই সব বিষয়ে আইন বিভাগ থেকে মতামত দিয়ে নথি পাঠানো হয়। বাকিরা কাজ না করলে আমাদের আর করার কি আছে।
[b]ঢাকা, একে, ২৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর//এসএইচ[/b]
জাতীয়
চাঁনখারপুলে ৩ তলা অবৈধ মার্কেট, জানে না ডিএসসিসি
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজধানীর চাঁনখারপুল মোড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দেড় বিঘা জমির উপর অবৈধভাবে ৩ তলা মার্কেট নির্মাণ করেছে সরকার সমর্থিত একটি জালিয়াত চক্র। নবনির্মিত মার্কেটটি যে কোন দিন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করা হতে পারে





