বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একজন প্রবাদপুরুষ উল্লেখ করে আসন্ন মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান ঘিরে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা আজ সোমবার দুদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। হর্ষবর্ধন শ্রিংলা রাজধানীতে ‘বাংলাদেশ-ভারত : একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেন।

এ সময় শ্রিংলা বলেন, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর আমার মনে হয়েছে, আমি বাড়িতে ফিরে এসেছি। আমি যাওয়ার পরও যোগাযোগ রেখেছিলাম। আমাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের এই পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “আপনারা জানেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা এই অনুষ্ঠান ঘিরে আশাবাদী। বঙ্গবন্ধু একজন প্রবাদপুরুষ, সারা বিশ্বেই তিনি পরিচিত। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতীক। বাংলাদেশের মতো ভারতেও তাঁকে স্মরণ করা হয়। নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান আমাদেরও একজন জাতীয় নায়ক।’”

শ্রিংলা আরো বলেন, ‘আমরা ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মত্যাগের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশের জন্য একটি মডেল।’

সেমিনারে শ্রিংলা বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে এবং অনেকগুলো অভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারা থাকায় এটাও অস্বীকার করা যায় না যে, আমাদের দুই দেশেরই কিছু ঘটনা কারণে বা অকারণে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো আসামে নাগরিকপঞ্জি হালনাগাদকরণ, যে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।

‘এখানে আমি স্পষ্ট করেই বলতে চাই, আমাদের প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদি) বারবার বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং বাংলাদেশের জনগণের উপর এর কোনো প্রভাব থাকবে না। আমরা এই ব্যাপারে আপনাদের আশ্বস্ত করছি।’

এ ব্যাপারে শ্রিংলা আরো বলেন, ‘আমাদের সীমান্তে নিয়োজিত বিএসএফের ওপর অনেক আক্রমণ হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ১২ জন ভারতীয় নাগরিক মারা যান, চারজন আহত হন। আহত হয়েছেন ৮৩ জন বিএসএফ সদস্যও, তাঁদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন।’

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানান, সীমান্তকে ‘জিরো ক্রিমিনাল অ্যাকটিভিটি জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উভয় দেশের সীমান্তে নিয়োজিত বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে। এ ছাড়া বর্ডারে নিহতের সংখ্যা যেন কম ঘটে, এ ব্যাপারে কাজ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সিএএ ও এনআরসি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, ‘সিএএ ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই বলেছেন, সিএএ ভারতের কোনো নাগরিক অথবা ধর্মের ওপর প্রভাব ফেলবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক ছাড়াও আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এএস