ভারত থেকে ধেয়ে আসা ঢলের ফলে তিস্তার নদীর পানি অনেক বেড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি আরো বেড়ে এবং প্রবল স্রোতে বিপদসংকুল হয়ে পড়তে পারে তিস্তাপাড়ের জীবনযাত্রা। ফলে তিস্তার উজান ও ভাটিতে বসবাসরত অধিবাসীদের অন্যত্র সরে যেতে মাইকিং করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে এ মাইকিং করা হয়। বাড়তি পানিতে তিস্তার তীর উপচে বন্যাকবলিত নদী ঘেঁষা ২০টি গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় খুলে রাখা হয়েছে তিস্তার ৪৪টি গেট।
এদিকে, উজানের ঢলে অস্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা উপকূলের ৫ উপজেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে জেলা প্রশাসন। যে কোনো পরিস্থিতিতে তাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, সময় যতো যাচ্ছে ভারত থেকে ঢলের পানি ধেসে আসায় তিস্তায় পানি ততোই বেড়ে চলেছে। এতে তারা আবারো প্রবল বন্যার আশঙ্কা করছেন। নতুন করে রেড অ্যালার্ট জারি হওয়ায় তারা রয়েছেন উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে।
অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার বিভিন্ন চরে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এর আগে বুধবার দুপুর ১২টায় ভারতে দৌমহনী পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। বিকেল ৫টার পর তিস্তার পানি নীলফামারীর পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু করে।
তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে।
এআর





