সবুজের সমারোহ কে না ভালবাসে। এর ছোঁয়ায় সজীবতা ফিরে পায় মন। দূর হয় ক্লান্ত দেহের অবিশ্রান্ত কোষ গুলোর গ্লানি। ইট পাথরের যান্ত্রিক শহরে সবুজের সংস্পর্ষ পেতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলঘ্ন আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে “অধিক বৃক্ষ ,অধিক সমৃদ্ধি”এই স্লোগানকে সামনে রেখে ৫ জুন শুরু হয় মাস ব্যাপী জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০১৪।
আর মেলা প্রাঙ্গনে বাহারী গাছের মধ্যে পছন্দের গাছটি কিনতে নানা বয়সী বৃক্ষ প্রেমীদের আগমনে জমে ওঠেছে মেলা। বৃক্ষ মেলায় ফলদ,বনজ,ঔষুধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের সমারোহ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে ১১০টি স্টল। এর মধ্যে ১৯টি সরকারি,৭৬টি ব্যাক্তি মালিকানা, এনজিও এবং সমবায় সমিতির ১১টি স্টল রয়েছে। মেলায় প্রতিটি স্টলেই রয়েছে বাহারী রকমের বৃক্ষের চারা।
ফলদ বৃক্ষের মধ্যে নানা জাতেরআম,পেয়ারা,জাম্বুরা,লটকন,তেতুল,জামরুল,লুকাট,শরিফা,পার্শিমন,রাম্বুটান,আমলকি,ডেওয়া বৌদ্ধ নারিকেল,বিলম্বি,থাই করমচা,ফিলিপাইনের মিষ্টি চালতা,ট্যাংফল,ননীফল, থাইআঙ্গুর.মাল্টা ও ইটালিয়ান অলিভসহ রয়েছে শতাধিক জাতের চারা।
ঔষুধি বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে আলফা আলফা,অশ্বগন্ধা,সর্পগন্ধা,সোনালু,কাজু বাদাম,বাসক ও দেশি নিম সহ প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ প্রজাতির চারা। মেলায় ক্রেতা- দর্শনার্থীদের জন্য মনলোভা সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে নানা জাতের বনসাই,বাহারী রংঙের ক্যাকটাস,বিভিন্ন রকমের অর্কিড,অ্যালোমান্ডা,কাঁঠালচাপা,ফুটবল লিলি,চাইনিজ টগরসহ অর্ধশতাধিক জাতের বিভিন্ন বৃক্ষের চারা।

সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষের মধ্যে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে নানা জাতের বনসাই ও ক্যাকটাস। পছন্দের ক্যাকটাসের মধ্যে রয়েছে রেডক্যাপ,প্যাগোডা,কম্পোজিট ও গোল্ডেন ব্যারেল। এবারের মেলায় বরিশাল নার্সারিতে রয়েছে ১লক্ষ টাকা মূল্যর আমলকির চারা। এটি থাইল্যান্ডের একটি প্রজাতি। দেশি আমলকির চেয়ে ভিন্ন স্বাদের গাছটি বৎসরে দুইবার ফলন দেয়। এ চারাটি পঞ্চাশ বছরের অধিক সময় ধরে ফলন দেবে বলে জানান নার্সারির মালিক মো: ইব্রাহীম খলিল।
মেলায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে রয়েছে শেকৃবির একটি স্টল। এখানে রয়েছে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন আমের চারা আমরুপালী,গোপালভোগ,থাই কাঁচা-মিঠা,হাড়িভাঙা নামের ভ্যারাইটি। যার মধ্যে আমরুপালী বৃক্ষের চারার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮থেকে ১০ হাজার টাকা। মেলার আনন্দ নার্সারীতে রয়েছে পার্শিমন নামে সু-স্বাদু একটি ফলদ বৃক্ষের চারা। এটিও থাইল্যান্ডের একটি প্রজাতি।এর দাম ৭০ হাজার টাকা বলে জানান নার্সারীর মালিক মামুনুর রশীদ।
এবারের মেলায় বৃক্ষ ছাড়াও রয়েছে গাছ লাগানোর মাটি,প্লাস্টিক ও সিনথেটিক বস্তুর টপ, মাটি,কীটনাশক ও গাছ পরিচর্যার সারঞ্জামাদি। পাওয়া যাচ্ছে গাছ পরিচর্যার নানা ধরনের কৃষি বিষয়ক বই। মাটি,বাশ,বেতের তৈরী কারুকার্যময় হরেক রকমের আকর্ষনীয় জিনিসও পাওয়া যাচ্ছে এ মেলায়।

মেলায় আগত ক্রেতা দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মাস ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।মোহাম্মদপুর থেকে মেলায় ঘুরতে আসা জাকিয়া তাবাচ্ছুম বলেন,এক সাথে অনেক নার্সারী থাকায় মেলা থেকে পছন্দের চারা কিনা যায়। মেলায় এসে ঘুরার পাশাপাশি সাধ্যর মধ্যে পছন্দের দুইটা ক্যাকটাসের চারা কিনলাম। মেলার ভিতরের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে অনেক ভাল লাগল।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে তথ্য ও নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র। তথ্য ও নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র থেকে জানা যায় গতকাল পর্যন্ত মেলায়। মেলা চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত।
ঢাকা,এসএ, ১৪ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ





