কুয়াকাটা সংলগ্ন চরগঙ্গামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর একজন ছাত্রী (১২) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশি ফজলু মোল্লা (৫৫) ওই ছাত্রীর বসত ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করে। গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে চরগঙ্গামতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক সোহরাফ ধর্ষিতাকে তার নানা বাড়ি পাঠিয়েছেন। ঘটনাটি দফারফা করতে লম্পট ফজলু মোল্লার নিকট থেকে ওই আ'লীগ নেতা ৬ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ধর্ষিতার মা খাদিজা বেগম জানান, স্বামী মারা যাবার পর থেকে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে তিনি অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাথা সেলাই করে সংসার পরিচালনা করছেন। ঘটনার দিন তিনি একই গ্রামের ফজলুল হকের বাড়িতে কাথা ও সূতা আনতে গেছিলেন।

পরে বাসায় এসে দেখেন প্রতিবেশী লম্পট ফজলু মোল্লা তার মেয়েকে মুখের মধ্যে ওড়না দিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করছে। ঘটনাটি দেখে ফেলায় ধর্ষক ফজলু ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দিয়ে চলে যায়।

তিনি আরও জানান, তার মেয়ে সকালে চরগঙ্গামতি কেরাতুল কোরআন মাদ্রাসা থেকে ফিরে মাকে না পেয়ে পাশের বাসায় (ধর্ষকের ছোট ভাই আলাম মোল্লার বাসায়) সিনেমা দেখছিল। এসময় লম্পট ফজলু পান খাওয়ার জন্য ওই ছাত্রীকে বাসায় ডেকে আনে। বাসায় আসা মাত্র তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

খাদিজা বেগম বলেন, তিনি মেয়েকে নিয়ে ফজলুর ছোট ভাই আলাম মোল্লা, জামাল মোল্লা, আলতাফ মোল্লার নিকট গিয়েছেন। তারা বিষয়টি শুনে মামলা দায়ের ও জানাজানি করতে নিষেধ করেন। আলাম মোল্লা ২৮০ টাকা ওষুধ কিনে দিয়েছে। পরেদিন আরও ২০০ টাকা দিয়ে মেয়েকে তার নানা বাড়ি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার লতাবুনিয়া এলাকায় পাঠিয়েছেন।

অভিযুক্ত ফজলু মোল্লার বাসায় গিয়ে তাকে না পাওয়া এবিষয়ে কথা হয় তার ২য় স্ত্রী মমতাজ বেগমের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি সত্য মিথ্যা জানি না। আপনারা যেভাবে শুনছেন আমিও শুনছি।’

ফজলু মোল্লার বাবা মকবুল মোল্লা (চোখে দেখে না) বলেন, ‘আমি জুতা দিয়ে বিচার করছি আর কোনদিন এরকম অপরাধ করবে না।’

এদিকে স্থানীয় ওয়ার্ড আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক সোহরাফ ঘুষ নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোন শালিশ বা বিচার করি নাই, ফজলুর বাবায় বিচার করছেন আমি সেখানে ছিলাম।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ফকির জানান, তার নিকট কেউ যায়নি, ঘটনার কয়েকদিন পরে শুনেছেন। সোহরাফ টাকা খেয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে কথা হয় চরগঙ্গামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আব্দুল লতিফের সাথে। তিনি জানান, একসপ্তাহ ওই ছাত্রীক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় অন্য ছাত্রীদের মাধ্যমে তাকে ডেকে আনতে পাঠিয়ে ছিলেন। মিম বাসায় না থাকায় মা খাদিজা বেগম স্কুলে এসে বিষয়টি খুলে বলেন।

এইচএ/ এআর