রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা ভবনের(৭ তলা) ছাদ থেকে পড়ে শাহ আলম সাগর (৪০) নামে  এক সাংবাদিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার পৌনে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহ আলম সাপ্তাহিক ‘অপরাধ দমন’ নামের একটি পত্রিকার প্রতিবেদক ছিলেন সাগর বলে জানিয়েছেন উত্তরা পশ্চিম থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।
নিহতের বন্ধু নজরুল ইসলাম দাবি করে বলেন, শাহ আলমকে থানা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। পড়ে যাওয়ার সময় শাহ আলম বাঁচাও বাঁচাও বলে স্বজোরে চিৎকার করে।
তবে এব্যাপারে উত্তরা থানা পুলিশের অফিসার ইন চার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলামের সাথে একাধিকার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।
এব্যাপারে উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, থানার ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা যান শাহ আলম।
তিনি জানান, উত্তরা ট্রাষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশির আহমেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে দুজনেই পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘টাকা পয়সা সংক্রান্ত’ বিষয়ে চলতি মাসে উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
এদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, থানার এক উপ পরিদর্শক আজ রোববার সন্ধ্যার পর ২ জনকে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য থানায় আসতে বলেছিলেন।
থানা এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাত ৮টার দিকে থানার পেছনে সাগরের লাশ পাওয়া যায়। থানার ছাদ থেকে পড়ে এক সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে, থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন রিসিভ করে এসআই মো. মোহসিন বলেন, “ভাই আমি কিছুই বলতে পারবো না।
লাশ কোথায় তাও বলতে পারবো না। এসব বিষয়ে আমি কথা বলতে পারছি না। আপনি পারলে উর্ধ্বোতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।”
এ বিষয়ে উত্তরা অঞ্চলের সহকারি কমিশনার সাইফুল্লাহ মোহাম্মদের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি টাইম নিউজ বিডিকে বলেন, শাহ আলম থানা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বা ট্রাষ্ট কলেজের প্রিন্সিপাল কেউই তাকে ধাওয়া দেননি কিংবা ছাদ থেকে ফেলে দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
লাশ উদ্ধারের পর তা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ।
[b]ঢাকা, জেইউ, ২ মার্চ ( টাইমনিউজবিডি.কম ) //এসএইচ[/b]