“কোথায় র্যাব। কোথায় হাসিনা সরকারের প্রতিশ্রুতি। খাগড়াছড়ির সাজেক পাহাড়েই নতুন ঠিকানা গড়েছে ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (এনএলএফটি)। পুরনো ও নতুন মিলে ৮৭ জন জঙ্গি সদস্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এখানে। এছাড়া মায়নি রিজার্ভ ফরেস্টে ১০/১২ জনের একটি ক্যাম্প রয়েছে। বান্দারবানের জঙ্গলেও চলছে টেনিং। সিলেটের চুনারুঘাট পুলিশ স্টেশনের আওতাধীন ওসমানপুরেও বেস ক্যাম্প তৈরি করেছে এনএলএফটি।”
আগরতলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবাদী কলম নামের একটি পত্রিকায় আজ সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটি দাবি করা হয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মূলত ত্রিপুরা খোয়াইয়ের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে হামলার জন্য চুনারুঘাটের ওসমানপুরের ক্যাম্পটিকে ব্যবহার করবে জঙ্গিরা। সবমিলিয়ে এনএলএফটির সুদিন খুব তাড়াতাড়িই ফিরছে বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। বছর দশেক আগে ত্রিপুরার বিভিন্ন অঞ্চলে এনএলএফটি জঙ্গি গোষ্ঠীর দাপট অব্যাহত ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “পুলিশি তৎপরতা এবং বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় সেদেশের মাটি থেকে উৎখাত হয়ে গিয়েছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ক্যাম্প। কিন্তু একবার বীজ বুনে যাওয়া জঙ্গিদের ঠিকানা মুছে ফেলার কাজটা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। দীর্ঘদিন কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার থাকায় তাদের সঙ্গে সিপিআইএম-এর সুসম্পর্কের ঘুরতিতে ত্রিপুরার জঙ্গিদের সম্পর্কে কঠোর মনোভাব নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এক বছর ধরে বাংলাদেশের মাটিতে একদিকে যেমন ভারতীয় জঙ্গিদের অবস্থান তীব্রতর হচ্ছে,অন্যদিকে এনএলএফটিসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন নিজেদের নতুন আস্তানাও গড়তে পেরেছে।”
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, “ইদানিং নতুন দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সরকার শপথ গ্রহণ করার পর থেকেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ত্রিপুরা এনএলএফটিও মাথাচাড়া দিচ্ছে। পুরনো সাজেক পাহাড়েই তারা নতুন ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এখানে গভীর জঙ্গলে ৮৭ জন কট্টর এনএলএফটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তাদের হাতে একে-৪৭, একে-৫৬, এসএলআর, জিপ-৩ ইত্যাদি অ্যাসল্ট রাইফেলসহ প্রচুর গোলাবারুদ রয়েছে। একই সঙ্গে খাগড়াছড়ির মায়নি রিজার্ভ ফরেস্টে এনএলএফটি বেশ কয়েকটি তাবু রয়েছে। বান্দারবানের আলী কদমকে ব্যবহার করা হচ্ছে অস্ত্র মজুতের জন্য “
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, “ভারত সরকারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো হাসিনা সরকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে বলে দুদেশের সংবাদ মাধ্যমেই প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু আদৌ কাজের কাজ কিছু হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না।”
পত্রিকাটির দাবি, “চট্টগ্রামের হালি শহরে এনএলএফটি তাদের একটি সেফ হাউস তৈরি করতে পেরেছে। এখানকার ১নং রোডে বাংলাদেশ সরকারের হাউজিং সেন্টারের দালান দুটি তল ব্যবহার করছে এনএলএফটি জঙ্গি নেতারা। কোনো জঙ্গি অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে জখম হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে এখানে আনা হবে বলে খবর। আগে চট্টগ্রাম শহরেই ৮নং রোডের বাংলাদেশ নগর উন্নয়ন কেন্দ্রের একটি বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসাবে ঠিকানা করে নিয়েছিল এনএলএফটি।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এসব গতিবিধি বাংলাদেশ পুলিশের অজনা থাকার কথা নয়। কিন্তু এরপরও এনএলএফটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে সেদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে। ত্রিপুরা সরকারের উচিৎ জঙ্গি প্রবণতা যাতে ফিরে না আসে সেজন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশের উপর চাপ বাড়ানো।”
পত্রিকাটিতে বলা হয়, “নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েই প্রতিবেশি দেশগুলোর কাছে সৌহাদ্যমূলক সম্পর্ক তৈরিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে দিল্লির দূত হয়ে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফর করেও এসেছেন। সবদিক লক্ষ্য রেখে ত্রিপুরা যাতে আবার জঙ্গিদের হিংসাদীর্ণ নৃশংসতায় ফিরে না যায় সেদিকে কড়া নজর দেওয়া দরকার কেন্দ্রীয় সরকারের।”
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





