পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার ১০ জেলের নিখোঁজ হওয়ার ৩৯ দিন পর মায়ানমারে সন্ধান মিললেও ফিরে আসতে পারছেনা তাদের পরিবারে কাছে। আইনী বেড়াজালে জড়িয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এসব জেলেরা রয়েছে সেখানাকার কারাগারে। আর মুক্তির বিষয়টি সহজ হচ্ছেনা জানতে পেরে পরিবারে আহাজারিতে ভারি হচ্ছে ঐগ্রামের বাতাস। পরিবারের একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যাক্তি না থাকয় অনেক পরিবার বর্তমানে অভুক্ত দিন পার করছে। এদিকে মায়ানমারের কারাগারে বন্দী জেলেরা মুঠোফোনে তাদের পরিবারকে জানায়, সে দেশের খাবার না খেতে পেরে সবাই পুস্টিহীনতায় ভুগছে। 

 

নিখোঁজ জেলেদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৩ জানুয়ারি কুয়াকাটার মৎস্য বন্দর আলীপুর ঘাট থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে এফবি ফয়সাল ট্রলার নিয়ে গভীর সাগরে নিখোঁজ হয়ে যায়। ঐ ট্রলারে কুয়াকাটার লতাচাপলী ইউনিয়নে মাইটভাঙ্গা গ্রামের ট্রলার মাঝি আলী হোসেন গাজী (৩৫), একই এলাকার জেলে কবির হাওলাদার (৩২), সোবাহান ঘরামী (৪৫), আলমগীর মাতুব্বর (৩৫), নজরুল গাজী (৩২), হাচান হাওলাদার (১৭) এবং মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের রুবেল (২৫), জাহিদুল (১৮), কাওছার মুসুল্লী (২৬) ও শামীম (১৬)। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দু’দিন এফবি ফেরদৌস ও এফবি খাদিজা নামে দু’টি মাছধরা ট্রলার সমুদ্র ঘুরে কোন তথ্য ছাড়াই ফিরে আসে। এনিয়ে নিখোঁজ জেলে পরিবারের পক্ষ থেকে মহিপুর থানায় ৪ ফেব্রুয়ারী একটি সাধারন ডায়রী করা হয়েছে। ডায়েরী নম্বর-১২৯।

মায়নমারের রাখাইন প্রদেশের হেড অব বাংলাদেশ কনস্যুলেট (অকিয়াব) শাহ আলম খোকনের ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে জেলেদের আটকের তথ্য। তিনি পত্রিকা মারফত জানতে পেরেছেন, ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে ভাসতে এসব জেলেরা মিয়ামারে উপস্থিত হয়। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের গোয়া শহরের ১৮ মাইল উত্তরের জি গোনি গ্রামের থেকে দুই নটিক্যাল মাইল দুরে সাগর থেকে এসব জেলেদের ১৫ ফেব্রুয়ারী উদ্বার করে গোয়া টাউনশিপ পুলিশ।

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সদর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে কাওসারের মৃতদেহ উদ্বার করে মিয়ানমার পুলিশ।

রাখাইন প্রদেশের হেড অব বাংলাদেশ কনস্যুলেট শাহআলম খোকন জেলেদের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেস্টা করেছেন। কিন্তু মায়ানমার সরকারের অনুমতি না মেলায় পারেননি।

তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, মায়ানমারের সাত মন্ত্রী এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জেলেদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছি। তবে তারা এবিষয়ে খুব একটা আশ্বস্থ করেনি।

তিনি জানান, মায়ানমারে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে জেলেদের নামে মামলা করা হয়েছে। একটি হাজিরা হয়ে গেছে। চলতি মাসের ৬ তারিখে আরেকটি হাজিরা রয়েছে। তাদের পক্ষে কোন কৌশলী না থাকায় এখন আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমের বিষয়টি সমাধানের চেস্টা চলছে। পাশাপাশি মুক্তি সহজতর করার সকল প্রচেস্টা অব্যাহত আছে।

কুয়াকাটা-অলীপুর ট্রলার ও মৎস্য ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, পাশ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই গভীর সমুদ্রগামী জেলেদের ভ্যাসেল ট্রাকিং সিস্টেমের আওতায় রাখা হলেও আমাদেরে দেশে তা নেই। নেই কোন উদ্বার তৎপরতা। তিনি দ্রুত মায়ানমারের কারাগারে বন্ধী জেলেদের দেশে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের সাহায্য কামনা করছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার এবিএম সাদিকুর রহমান, জেলেদের দেশে ফেরত আনার জন্য সব রকম কাজ ইতমধ্যে আমরা শুরু করেছি। প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র যথাযথ দপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে।

হোসাইন/জারিফ