যানজট, কোলাহল, মোড়ে মোড়ে গাড়ি, রিকশার জট; সাধারণত এমন চিত্র রাজধানী ঢাকার নিত্যসঙ্গী। তবে ঈদুল আজহার আগের দিনে সে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাস্তায় নেই কোনো যানজট, নেই ট্রাফিক সিগন্যালের তেমন বিধিনিষেধ। রাজধানীর রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে।

তবে পরিবহন শ্রমিকদের ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য করতে দেখা গেছে। রাজধানীর শ্যামলী থেকে বনানী পর্যন্ত বাস ভাড়া ২০ টাকা। ঈদকে সামনে রেখে সেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, বাকিটা ঈদের বকশিস।

এদিকে, গত ২০ জুন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানছে না পরিবহন শ্রমিকরা।

বুধবার (২৮ জুন) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রুট ঘুরে বাসের ভাড়া নিয়ে এই ধরনের নৈরাজ্যের চিত্র চোখে পড়েছে।

নগরীর শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাসে যাত্রীরা ওঠার আগেই ভাড়ার কথা বলে দিচ্ছেন চালকের সহকারী। সাধারণ সম‌য়ে শ‌্যামলী থে‌কে গাবতলী ১০টা ভাড়া হ‌লেও গা‌ড়ি‌তে ওঠার আগেই ‘যেখা‌নেই নাম‌বেন ভাড়া ২০ টাকা’ ব‌লে যাত্রী তুলছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

বাড়তি ভাড়ার কারণ জানতে চাইলে পরিবহন শ্রমিকরা ব‌লছেন, কাল ঈদ। এখন তো আগের ভাড়া চলে না। ঈদের বকশিস দিবেন না? ঈদ উপল‌ক্ষে আজ ভাড়া বে‌শি। ঈদের তিন দিন এটা থাকবে।

বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে অভিযোগ থাকলেও বাধ্য হয়েই তা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রীরা বলছেন, কিছু করার নেই, এরা যা চায় তাই তো দিতে হবে। কারণ ঢাকা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এই কয়েক দিন এদের রাজত্ব চলব। শুধু বাস ভাড়াই নয়, রিকশা ভাড়া নিয়েও নৈরাজ্য চলছে।

এবারের ঈদযাত্রায় দূরপাল্লার যাত্রীদেরও বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে। গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, যারা আগাম টিকিট কাটেননি তাদের কাছে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, এটা তারা ঈদের বখশিস হিসেবে নিচ্ছেন।

এদিকে ঈদযাত্রায় সড়ক ও নৌপথের বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (২৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এবারের ঈদে যানজট ও জনজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসনীয় তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও ঈদযাত্রায় বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে।

মোজাম্মেল বলেন, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের পথে বিভিন্ন রুটে গতকাল থেকে যাত্রীভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল। চট্টগ্রাম থেকে ভোলা, লক্ষীপুর, নোয়াখালীসহ উত্তরবঙ্গের পথে যাত্রীপ্রতি দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা থেকে ফেনীর যাত্রীদের চট্টগ্রামের ভাড়া, ঢাকা থেকে সাতকানিয়া বা আমিরাবাদের যাত্রীদের কক্সবাজারের ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ঠিক তেমনি ঢাকা থেকে বগুড়ার যাত্রীদের যশোরের ভাড়া বা সাতক্ষীরার ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এভাবে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের বেশি দূরত্বের ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, নৌপথেও এহেন কূটকৌশলের ফাঁদে পেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই জুলুম ভাড়া নৈরাজ্য চললেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। অনতিবিলম্বে এই ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, জেলা প্রশাসনের ভ্রামমাণ আদালতের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এবিএস