বর্ষা মৌসুমে বরিশালের আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, গৌরনদী, বানারীপাড়া, মেহেন্দীগঞ্জসহ নদী ও বিল বেষ্টিত বিভিন্ন এলাকার মানুষের নির্ভরযোগ্য বাহন হয়ে ওঠে নৌকা।
এই মৌসুমে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও মৎস্য শিকারের কাজে নৌকার ভূমিকা অপরিসীম। হাট-বাজার থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য নৌকার ওপরই নির্ভর করতে হয় সবাইকে।
এই মৌসুমে নৌকা তৈরি করে অসংখ্য পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এসময় নৌকার চাহিদার কথা মাথায় রেখে আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে নৌকা তৈরির ধুম। নির্মাতারা বিভিন্ন স্থান থেকে কাঠ কিনে এনে তৈরি করছেন নৌকা।
জ্যৈষ্ঠ্য থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত এসব অঞ্চলে নৌকার হাটও বসে। এর মধ্যে আগৈলঝাড়ার সাহেবেরহাট, বাহাদুপুর ও গৌরনদীর মাহিলারার হাট অন্যতম। প্রতিবছরের মতো এবারো জমে উঠেছে আগৈলঝাড়ার নৌকার হাটগুলো।
আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা গ্রামের বাসিন্দা নৌকা নির্মাতা ও বিক্রেতা অজিৎ বাড়ৈ জানান, তিনি সারা বছরই নৌকা বানিয়ে থাকেন। তবে বিক্রি ভালো হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের প্রস্তুতিটা আলাদাই থাকে।
এবার শুধু বর্ষা মৌসুমে ব্যবহারের জন্য কমদামি নৌকা বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন অসীম বাড়ৈ নামে অপর এক নির্মাতা।
তিনি জানান, নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তিনি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া নৌকা তৈরির পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।
নৌকা তৈরির প্রধান উপকরণ কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার মতো অনেকেই অর্থকষ্টে আছেন বলে জানান তিনি। আবার বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময় সেভাবে নৌকা বানানোর কাজ থাকে না। ফলে ওই সময় নৌকা তৈরির কারিগররা বাসা-বাড়ি বা অন্য কোথাও কাঠমিস্ত্রির কাজ করে থাকেন।
নৌকা নির্মাতারা জানান, আগে উন্নতমানের সুন্দরী কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করা হলেও বর্তমানে কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় রেইন-ট্রি, চাম্বল, শিমুল কাঠ দিয়েও নৌকা তৈরি করা হচ্ছে। চাম্বল কাঠ দিয়ে ডিঙ্গি ও ছোট আকারের পিনীস নৌকা তৈরি করা হয়। কাঠের ওপর নির্ভর এসব নৌকা বিক্রি হয় দুই হাজার থেকে আট হাজার টাকায়। আর রেইন-ট্রি কাঠ দিয়ে তৈরি হয় কমদামি নৌকা। যা দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। অনেক সময় তৈরি করা সব নৌকা বিক্রি না হওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় তাদের।
নৌকা তৈরির কারিগর সত্য বাড়ৈই জানান, একজন মিস্ত্রির একটি ডিঙি নৌকা তৈরি করতে তিন থেকে চারদিন সময় লাগে। কাঠ, নকশা ও আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেকটি নৌকা বানাতে খরচ হয় ১২শ’ থেকে দুই হাজার টাকা। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশিও খরচ হয় বলে জানান তিনি। প্রতিটি নৌকা পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয় দেড়শ’ থেকে ২২শ’ টাকায়। আবার অনেক ক্রেতা অর্ডার দিয়ে নৌকা বানিয়ে নেন।
জেআই





