আমাদের দাবি একটিই আর তা হচ্ছে মেয়েদের বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ন্যূনতম ১৮ রাখা হোক।
১৬ বছরে যেখানে একটি মেয়ে স্কুলের গন্ডি পেরুতে পারে না সেখানে একটি মেয়ে কিভাবে একটি পরিবারের দায়িত্ব নিবে বলে জানান আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল।
সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আয়োজিত 'বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে কন্যা শিশুর বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ন্যূনতম ১৮ বহাল রাখা'র দাবি শীর্ষক এক মানববন্ধনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সুলতানা কামাল বলেন, বিয়ে মানে শুধু মাত্র দুজন নারী-পুরুষ একত্রে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নয় তার পাশাপাশি অনেকগুলো বিষয় এর সাথে যুক্ত থাকে। অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৯২৯ সালে ১৮ করা হয়। কাজেই এই বিয়েকে আইনগতভাবে বৈধ করার মানে হচ্ছে নারীর অগ্রগতির যাত্রাকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করা।
পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হবে। আর তাই এই আইন যদি শর্তহীনভাবে বহাল রাখা না হয় তাহলে আন্দোলন চলতে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ৭০ টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের একটি নারী মোর্চা। এপর্যন্ত বাংলাদেশে নারীর মানবাধিকার রক্ষায় যতগুলো আইন হয়েছে তার সবগুলোতে নারী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
কন্যা শিশুর বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে নূন্যতম ১৮ বহাল রাখার দাবিতেও সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি বিভিন্নভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে। কন্যা শিশুর বিয়ের বয়স যদি ১৮ এর নিচে নামিয়ে আনা হয় তাহলে এর ফলে নারীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর অগ্রগতি তথা সমাজের অগ্রগতি ব্যাহত হবে।
১৯২৯ সালে উপনিবেশবাদ আমলে মেয়েদের বিয়ের বয়স যেখানে ১৮ করা হয়, ২০১৫ সালে এসে সরকার যদি শর্তহীনভাবে মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স ১৮ না রাখে তাহলে এদশের নারী আন্দোলন কখনোই তা মেনে নিবে না।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক যে সনদগুলোতে বাংলাদেশ সরকার স্বাক্ষর করেছে এখন সেখানে যদি বিয়ের বয়সের পরিবর্তন করে তা কমিয়ে নিয়ে আসা হয় তা হবে প্রচলিত আইন ও জাতিসংঘ, সিডও সনদ, শিশু অধিকার সনদ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গিকারসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক।
সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে তাহলে আমাদের ভিশন ২০-২১ ভিশন ৪০-৪১ কখনোই সফল হবে না বলে মন্তব্য করে আয়শা খানম বলেন, এই সরকার নারী বান্ধব সরকার, এই সরকার নারীর ক্ষমতায়ণের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। কাজেই এই সরকার অবশ্যই আত্মঘাতিমূলক সিদ্ধান্ত থেকে বিরক থাকবেন বলেন আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মানবন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নারী জোটের আহ্বায়ক আফরোজা হক রীনা, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভলপমেন্টের রঞ্জন কর্মকার, অ্যাকশন এইডের রোকেয়া আক্তার, কন্যাশিশু অ্যডভোকেসি ফোরামের নাসিমা আক্তার জলি, অ্যাডাবের ঢাকা মহানগরের মেম্বার সেক্রেটারি কাজী বেবি, দলিত নারী ফোরামের মনি রানি দাস, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের নাসিমুন আরা হক মিনু প্রমূখ।
এমএ/এসএইচ





