এখন বাংলাদেশে শাসকশ্রেণি নিজেদের ভিতরে, নিজেদের দলসমূহের মধ্যেই নূনতম নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রয়োজন মনে করছে না। নির্বাচনে জয়ের সাথে এখানে রাতারাতি বিশাল অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার সুযোগ অবারিত হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি আয়োজিত ‘জনগণের ভোটাধিকার, নির্বাচনী ব্যবস্থাও গণতন্ত্রের ভবিষ্যত’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক বুৎরো বহ্নি শিখা জামালি একথা বলেন।
জামালি বলেন, বাংলাদেশে জনগণের ভোটাধিকার, নির্বাচন কমিশনও বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে সমাজের সচেতন সকল অংশের মানুষের মধ্যে আজ নিদারুণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।
৫ই জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং ২৮ এপ্রিল সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পর জনগণের মধ্যে এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরো প্রবল হয়েছে।
ভূত নাকি পিছনের দিকে হাটে, আর এখন বাংলাদেশের গণতন্ত্রও এখন পিছনের দিকে হাটছে। গণতন্ত্রের নামে এখানে সৈরতন্ত্র আরো জোরদার হচ্ছে। গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের কথা বলে এখানে সৈরতন্ত্র কি আরো জোরদার হবে।
সিটি নির্বাচনে সরকার তথা ক্ষমতাসীন দল, বংশবদ নির্বাচন কমিশনসহ সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে প্রকাশ্য দিবালোকে সীমাহীন জালিয়াতি, ভোটকেন্দ্র দখল, সাংবাদিকদের লাঞ্চনাও ইচ্ছামত তৈরি করা ফলাফল নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করে এখন স্বস্তির ঢেকুর তুলছে। কিন্তু সরকার ও সরকার ছাড়া এ নির্বাচন দেশও দেশের বাইরে আর কেউ গ্রহণ করেনি।
এখন সমগ্র রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরকারি দলকে যাবতীয় সুরক্ষা দিয়ে চলেছেন। রাষ্ট্রীয় বাহিনী থেকে তারা এখন সরকারও সরকার দরীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছেন। তারা সরকারকারী দলের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যক্ষও পরোক্ষভাবে ভোটাধিকার, গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার, নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও চলাফেরার সীমানা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। এবার সেই প্রশাসন যন্ত্রই সিটি নির্বাচনের দিন তারিখ ঠিক করে দিয়েছেন।
১৯৭৩ সাল থেকে নির্বাচনে জালিয়াতির যে ধারা শুরু হয়েছে পরবর্তীতে জিয়ার হ্যাঁ-না ভোট, এরশাদের অধীনে ’৮৬ আর ’৮৮ এর নির্বাচন, খালেদা জিয়ার ’৯৬ সালের ১২ ফেরুয়ারির নির্বাচন, আর শেখ হাসিনার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটরং নির্বাচনী জালিয়াতিও তামাশার কেবল নতুন নতুন বৈশিষ্ঠ্যও মাত্রা যুক্ত হয়েছে। আর সর্বশেষ ২৮ এপ্রিলের নির্বাচন তারই ধারাবাহিকতার অংশ।
শাসকশ্রেণি কেবল গায়ের জোরে শাসন করে না, করতেও পারে না। আর আওয়ামী লীগ এ ক্ষেত্রে পারদর্শীতা অর্জন করেছে।
চলমান গণতন্ত্রের বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে ভোটার ছাড়া ভোটের আয়োজন। প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন নির্বাচন, আর তাদেরকে আবার নির্বাচিতও বলা যাবে। সংসদে বিরোধী দল থাকবে না। সরকার থেকেই বিরোধী দলের দাবি করা যাবে। সবাইকে মেনে নিতে হবে এটাই গণতন্ত্র বলে মন্তব্য করেন।
যদি আমরা মুক্তিযুদ্ধের দিশায় বাংলাদেশকে পুর্নগঠন করতে চাই, তাহলে বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকারও সংবিধানের মৌলিক রুপান্তর ছাড়া শর্টকার্ট আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, তেল গ্যাস বিদ্যুৎ রক্ষা জাতীয় কমিটির আনু মোহাম্মদ, মানবাধিকার সংগঠক জোর্তিময় বড়ুয়া, কমরেড সাইফুল হক, মেয়র প্রার্থী বজলুর রশিদ ফিরোজ প্রমুখ।
এমএ/কেএইচ





