জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যায় ১০ হাজার ২২৬ হেক্টর জমির আমন ফসল নষ্ট হওয়ায় এক লাখ কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ২৩ দিনের বন্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের ১৪৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
তিস্তা, ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠ-ঘাট, আমন ক্ষেত, সবজি ক্ষেত, বীজতলাসহ ১৫ হাজার ১৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ১০ হাজার ২২৬ হেক্টর আমন ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে এক লাখ কৃষকের প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খোর্দ্দা গ্রামের কৃষক লাবু, রশিদ, হরিপুর চরের কৃষক সাজু মিয়াসহ অনেক কৃষক জানান, ফসল উৎপাদন খরচ বেশি জেনেও আমন ফসল পাওয়ার আশায় কৃষকেরা চারা রোপণ করেছিল। কিন্তু সর্বনাশা বন্যা এবার সব ফসল নষ্ট করে দিয়েছে।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া জানান, ইউনিয়নের ৯৫ ভাগ ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হয়েছে। সরকারিভাবে কৃষকদের সহায়তা না করলে এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশেদুল ইসলাম জানান, এবারের বন্যায় প্রায় ৯৫ হাজার কৃষকের ১০ হাজার ২২৬ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়। উপজেলায় বন্যায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন্যায় ফসলি জমি ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এদিকে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক বিনষ্ট আমন ক্ষেতগুলোতে পুনরায় রোপা চারা লাগানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু চারদিকে হন্যে হয়ে চারা বীজ সংগ্রহের জন্য ছুটলেও চারা মিলছে না কৃষকদের।
জেআই





